সব ধরনের চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। এর ফলে ঈদের আগে বাংলাদেশসহ ভারতের চিনির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো বিপাকে পড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক দেশ ভারত। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে বলা হয়েছে, সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই লোডিং শুরু হয়ে থাকলে রপ্তানির চালানগুলোকে অনুমতি দেয়া হবে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বৈদেশিক বাণিজ্য মহাপরিচালকের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা অপরিশোধিত, সাদা এবং পরিশোধিত চিনির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি ‘সীমাবদ্ধ’ থেকে ‘নিষিদ্ধ’ নীতিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন। কারণ সরকার এর আগে উদ্বৃত্ত উৎপাদনের প্রত্যাশায় সীমিত পরিমাণে চিনি রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল।

ভারতে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো চিনির উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে কম থাকবে বলে আশঙ্কার ভিত্তিতে চিনি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। অবশ্য নির্দিষ্ট কোটা প্রতিশ্রুতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং ঐতিহাসিকভাবে ভারত ছিল এর অন্যতম শীর্ষ সরবরাহকারী। বাংলাদেশ বছরে ২ থেকে ২.২ মিলিয়ন টন চিনি ব্যবহার করে, যার চাহিদা ঈদের সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই ভারত চিনি রপ্তানি নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশের মতো দেশের বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত প্রধানত এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি প্রধান বাজারে তার চিনি (অপরিশোধিত ও পরিশোধিত সাদা চিনি উভয়ই) রপ্তানি করে। বিপুল পরিমাণে ভারতীয় চিনি আমদানিকারী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা এবং মালয়েশিয়া।

ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া মৌসুমে ভারতের মোট চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে ৩২ মিলিয়ন টন। এটি পূর্বের ৩২.৪ মিলিয়ন টনের অনুমান থেকে সংশোধিত হয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

সরকার আগামী মৌসুম নিয়েও উদ্বিগ্ন। ২০২৬-২৭ সালে চিনির উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর কারণ হলো, এল নিনোর কারণে বৃষ্টিপাত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সারের ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews