সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই অপুষ্টিতে ভুগছিল, এদের মধ্যে ১২ শতাংশ তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি মাত্রার অপুষ্টির শিকার। উদ্বেগজনক তথ্য হলো, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৪০ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস সম্পূর্ণ বুকের দুধ পায়নি, আর মৃত শিশুদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা আরও বেশি—৮২ শতাংশ।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের (বাশিহাই) রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন বাশিহাইয়ের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম ও আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র ডিরেক্টর ড. মুস্তাফিজুর রহমান।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৫৪ জন হামে আক্রান্ত শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় অর্ধেক শিশুর বয়স ছিল তিন থেকে নয় মাসের মধ্যে। টিকাদানের অবস্থা অনুযায়ী শিশুদের ভাগ করে দেখা যায়—টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি এমন শিশুদের প্রায় সবারই (৯৭ শতাংশের বেশি) হাম শনাক্ত হয়েছে, একই হার দেখা গেছে টিকা নেওয়ার বয়স হয়েও কোনো ডোজ না পাওয়া শিশুদের মধ্যেও। এক ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ এবং সম্পূর্ণ দুই ডোজ নেওয়া শিশুদের ৭৬ শতাংশের হাম ধরা পড়েছে।
গবেষকেরা অবশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন, এই পরিসংখ্যান দিয়ে সাধারণভাবে বোঝানো ঠিক হবে না যে দুই ডোজ টিকা নেওয়া সব শিশুর তিন-চতুর্থাংশ হামে আক্রান্ত হচ্ছে-এই গবেষণা কেবল হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তাই বিষয়টি নিয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান দরকার। তাঁদের মতে, টিকা নেওয়ার পরও কারও কারও শরীরে পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে না ওঠা, সময়ের সাথে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া বা অপুষ্টির মতো কারণ এর পেছনে থাকতে পারে, যদিও এই নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা গবেষণাটির লক্ষ্য ছিল না।
ভাইরাসতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শনাক্ত সব ভাইরাসই বি৩ সাবক্লেডের, যা অন্যান্য দেশে পাওয়া বি৩ ভাইরাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া ভাইরাসের প্রতিরোধ-সংশ্লিষ্ট এইচ প্রোটিনে চারটি মিউটেশন শনাক্ত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, সভাপতিত্বে ছিলেন বাশিহাই বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পূর্বকোণ/আদর