ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কংগ্রেসের আইনগত ক্ষমতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।
তারা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক অভিযান শুরুর আগে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করে অনুমোদন নিতে হবে। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেবি ওয়াসারম্যান শুলৎস বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ট্রাম্পকে অবশ্যই কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। পাশাপাশি কেন ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং কেন সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি তাও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে ।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েছিলেন।
ওয়াসারম্যান শুলৎস আরও বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো হুমকির প্রমাণ নেই যা বড় ধরনের সামরিক হামলাকে যৌক্তিকতা দেয়। প্রেসিডেন্টের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ ও অনুমোদনের ভিত্তিতেই হতে হবে।
গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য ও কারণ স্পষ্ট করেনি। এ বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদনও চায়নি। যুদ্ধ ঘোষণার সাংবিধানিক ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের। এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ কার্যকর করতে হবে।
এছাড়া মার্কিন সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জ্যাক রিড সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে আগাম হামলা কৌশলগত হিসেবে ভুল হতে পারে। এর পরিণতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। রিড আরও বলেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু শেষ করা অত্যন্ত কঠিন।
এদিকে শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে চাপ দিতে সীমিত সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো সামরিক সমাধান নেই। কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। তবে এসব পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি।
সূত্র: পার্স টুডে
বিডি-প্রতিদিন