কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের উইটবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে যৌন উদ্দীপক কনটেন্ট পাঠানো এবং তাদের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে ডারহাম কলেজের এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডারহাম রিজিওনাল পুলিশের ‘ইন্টারনেট চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন ইউনিট’ দীর্ঘদিন তদন্ত চালানোর পর সন্দেহভাজন ওই যুবককে তার নিজ বাসস্থান থেকে আটক করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মানু সুগুনাকুমার (২৩)। তিনি উইটবির বাসিন্দা এবং ডারহাম কলেজের একজন কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মূলত ২০২৫ সালের শেষের দিকে। অভিযুক্ত সুগুনাকুমার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ১২ এবং ১৩ বছর বয়সী দুই কিশোরীকে টার্গেট করেন। পরিচয় গোপন রেখে এবং তাদের বয়স ও সরলতার সুযোগ নিয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিট এবং স্ন্যাপচ্যাট-এর মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন।
- Advertisement -
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেকে আড়াল করতে তিনি দুটি সুনির্দিষ্ট ইউজারনেম ব্যবহার করতেন: রেডিট ইউজারনেম: ডেলিভারিনরমাল৭১৮৯ এবং স্ন্যাপচ্যাট ইউজারনেম: মানু০৪১.০১ । অভিযোগ রয়েছে, এই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করে তিনি ওই দুই কিশোরীকে বিভিন্ন আপত্তিকর ও যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট পাঠাতেন। শুধু তাই নয়, কৌশলে প্রলুব্ধ করে তাদের কাছ থেকেও যৌন উদ্দীপক ও শোষণমূলক উপাদান হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
ভুক্তভোগীদের পরিবার বা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য পাওয়ার পর ডারহাম পুলিশের বিশেষায়িত চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন ইউনিট তদন্তে নামে। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করার পর, ২০২৬ সালে উইটবিতে অবস্থিত সন্দেহভাজনের বাড়িতে একটি সার্চ ওয়ারেন্ট বা তল্লাশি পরোয়ানা জারি করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশ আকস্মিকভাবে তার বাড়িতে হানা দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন মানু সুগুনাকুমার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা প্রতিরোধ ছাড়াই তাকে শান্তভাবে নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তল্লাশি চালিয়ে তার ঘর থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস (যেমন ল্যাপটপ, মোবাইল বা হার্ডডিস্ক) জব্দ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত যুবক একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকায় এই ঘটনাটি আরও বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ডারহাম কলেজের একজন মুখপাত্র এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন: “আমাদের একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বিরুদ্ধে ডারহাম আঞ্চলিক পুলিশ যে অভিযোগ এনেছে, সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অবগত। এই অভিযোগগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমাদের শিক্ষার্থী, কর্মী এবং সামগ্রিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মঙ্গলই আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পুলিশকে তাদের তদন্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।” প্রতিষ্ঠানটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার পর পরই ওই কর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে ক্যাম্পাসের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে পুলিশ আশঙ্কা করছে, সুগুনাকুমার দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন এবং এই দুই কিশোরী ছাড়াও আরও অনেকেই তার দ্বারা ভুক্তভোগী বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে থাকতে পারে। তাই অন্য কোনো ভুক্তভোগী থাকলে বা কারও কাছে এই বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য থাকলে, তাদের অনতিবিলম্বে ডারহাম পুলিশের চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন ইউনিট বা ক্রাইম স্টপোর্সের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত মানু সুগুনাকুমারের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন হেনস্থার উদ্দেশ্যে প্রলোভন দেখানো এবং শিশু নির্যাতনমূলক কনটেন্ট তৈরি বা সংগ্রহের চেষ্টার মতো একাধিক সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে জামিন শুনানির জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে কানাডিয়ান আইন অনুযায়ী, আদালতে বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনা এই সমস্ত অভিযোগই প্রাথমিকভাবে ‘অভিযোগ’ হিসেবেই গণ্য হবে।
- Advertisement -