বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় বাথ পার্টির সমর্থকেরা যে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন, ইরাকের বাথ পার্টির সমর্থকদের সঙ্গে যা ঘটেছে, উগান্ডায় ইদি আমিনের পতনের পর তাঁর সমর্থকদের প্রতি উগান্ডার জনগণ যে আচরণ করেছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা অনেক বেশি নিরাপদে আছেন এবং সেটিই কাম্য। কিন্তু এর মানে এই নয় যে মানুষ আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসন ভুলে গেছে এবং এখন আওয়ামী লীগ চাইলে যা খুশি তা-ই করতে পারবে।
কারিনা কায়সারের মৃত্যুকে ঘিরে যা হচ্ছে, তার একটি বিশেষ মাত্রা আছে। তিনি নারী বলেই আক্রমণটি এই রূপ নিয়েছে। তিনি পুরুষ হলে হয়তো এই বীভৎসতা এতটা নিচে নামত না। কারিনা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিলেন। তাই তাঁর প্রতি যা হচ্ছে, তা আওয়ামী চেতনাধারী অনেকের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে না।
এই নীরবতাও একটি বার্তা দেয়। যাঁরা নিজেদের প্রগতিশীল মনে করেন, যাঁরা লিঙ্গসমতার কথা বলেন, তাঁদের একাংশ এই মুহূর্তে নিশ্চুপ। কারণ, কারিনার রাজনৈতিক পরিচয়টি তাঁদের কাছে অস্বস্তিকর। কিন্তু মানবিক মর্যাদা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। একজন মৃত মানুষের প্রতি এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হলে তাঁর রাজনীতির সমর্থক হওয়ার প্রয়োজন নেই।