ইসরায়েলের প্রভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির রূপ বদল না করতে ওয়াশিংটনকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার সকালে তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হুঁশিয়ারি দেন।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত কোনো বহিঃশক্তির চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। বিশেষ করে ইসরায়েল যেভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং মার্কিন স্বার্থকে উপেক্ষা করে চলেছে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। বাঘাই স্পষ্টভাবে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে গত আট দশক ধরে যাবতীয় অস্থিরতার মূল উৎস হচ্ছে ইসরায়েল এবং তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
পরমাণু চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই ইরান বর্তমানে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। গত এক দশকের ঘটনাবলি এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমেরিকার গৃহীত পদক্ষেপগুলো তেহরানের মনে গভীর সংশয়ের সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, ইরান কখনোই কূটনীতির পথ থেকে সরে দাঁড়ায়নি। আঞ্চলিক দেশগুলোর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবং জনগণের ন্যায্য অধিকারের কথা মাথায় রেখেই ইরান নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসেছে। আলোচনার এই প্রক্রিয়াটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, ইরান এখন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে অপর পক্ষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাঘায়ি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আলোচনারত অবস্থায় ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের জুনে ঘটে যাওয়া সামরিক তিক্ততার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরান সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া গাজা ও লেবাননে চলমান সহিংসতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও এই অপরাধের অংশীদার হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
সূত্র: মেহের নিউজ
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল