যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দিনের আলোচনার পর ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবানন একটি ‘কাঠামোগত (ফ্রেমওয়ার্ক)’ চুক্তিতে সই করেছে। এর ঘোষণা দিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে।  খবর বিবিসির। 

তবে চুক্তি সই হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমিত সংঘর্ষ এখনও চলছে। বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।

শুক্রবারের (২৬ জুন) এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। ফলে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তারা যোদ্ধা সরিয়ে নেবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

ওয়াশিংটনের আশঙ্কা ছিল, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাত অব্যাহত থাকলে ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তি সমঝোতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধের অঙ্গীকার রয়েছে।

চুক্তিতে যা রয়েছে

১৪ দফার এই চুক্তিতে ইসরাইল ও লেবানন একে অপরের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অধিকার স্বীকার করেছে। পাশাপাশি নিরাপদ ও সার্বভৌম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে একসঙ্গে বসবাসের ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে।

দুই দেশ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করেছে। এ ছাড়া বন্দিদের মুক্তি এবং নিহতদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজনে আত্মরক্ষার অধিকার থেকে কোনো দেশই বঞ্চিত হবে না।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে: আইএইএ প্রধান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ রয়েছে: আইএইএ প্রধান

চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) পুরো দেশের ওপর কার্যকর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। তবে তার আগে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হবে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও বিশেষ করে আরব দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে লেবানন।

চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি সামরিক সমন্বয়কারী দলও গঠন করা হবে।

কূটনৈতিকভাবে এই চুক্তি ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও লেবাননের পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে সীমান্তে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক দিনে সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমেছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ।

অন্যদিকে চুক্তি সইয়ের পরই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন ছাড়বে না। বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ এলাকা দখল করে রয়েছে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির ৭ বছরের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির ৭ বছরের কারাদণ্ড

তিনি আরও বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনীকে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—একটি লিতানি নদীর দক্ষিণে এবং অন্যটি উত্তরে।

হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ১৯২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৬০০ জনের বেশি এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১২ লাখেরও বেশি মানুষ।

অন্যদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সংঘাতে সীমান্তের দুই পাশে ৩৬ জন ইসরাইলি সেনা এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews