মধ্যযুগে তুরস্কের এক বাদশাহ নিজের চেহারাসুরত নিয়ে খুব অহংকারে ভুগতেন। তিনি তাঁর সভাসদ মোল্লা নাসিরুদ্দিনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমার এই সুন্দর দেহ নিয়ে আমি যদি ক্রীতদাসের বাজারেও দাঁড়াই, তাহলে বলো তো হে আমার মূল্য কত হবে?’
মোল্লা বললেন, ‘মাত্র দশ মোহর।’ বাদশাহ খেপে গিয়ে বললেন, ‘ইয়ার্কি করছ! আমার টুপিটার দামই তো কমপক্ষে দশ মোহর।’ শান্তভাবে মোল্লার জবাব, ‘দাম বলতে তো ওটুকুই। আমি সেটার দামই বলেছি।’ অর্থাৎ মোল্লার কাছে অহংকারী বাদশাহর দেহের মূল্য শূন্য।
বাংলাদেশের বেশ কিছু ব্যাংকের আসল দামও বাদশাহর মতো শূন্য। এসব ব্যাংকের সম্পদ বেচে দায় শোধ করলে যে অবশিষ্ট বা ‘নেট ওর্থ’ পাওয়া যায়, তা শূন্য বা ঋণাত্মক।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ বিল আকারে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। তবে এর সঙ্গে আপত্তিকর এক নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে, যা এক অনালোচিত বিস্ময়। এই ধারায় যা বলা হয়েছে, তাতে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।