দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে চলতি মৌসুমে প্রথম দফায় নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ। কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার নদীর একাধিক স্থানে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে। শুক্রবার পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিম সংগ্রহ করতে ইতোমধ্যে হালদা নদীর দুই পাড়ে শত শত আহরণকারী নৌকা নিয়ে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে ভাটার সময় এবং দুপুরে জোয়ারের সময় হাটহাজারীর গড়দুয়ারা ইউনিয়নের নয়াহাট, রাউজানের পশ্চিম গুজরা এলাকার আজিমের ঘাট ও নাপিতের ঘাটসহ কয়েকটি স্থানে নমুনা ডিম দেখা যায়। এ সময় স্থানীয়রা অল্প পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করেন।
হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, দুপুরের জোয়ারে রুইজাতীয় মা মাছ স্বল্প পরিসরে ডিম ছেড়েছে। অনেক ডিম সংগ্রহকারী প্রস্তুত না থাকায় পরিমাণ কম পাওয়া গেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতের জোয়ারে স্বাভাবিকভাবে পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতি বছর বর্ষার শুরুতে বজ্রবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে, যা থেকে প্রাকৃতিকভাবে পোনা উৎপাদন হয়। প্রতি বছর ৫০০ থেকে ৭০০টি নৌকা ও জাল ব্যবহার করে বিশেষ কৌশলে ডিম সংগ্রহ করা হয় এবং তা বিভিন্ন মৎস্য হ্যাচারিতে সরবরাহ করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এসব পোনার গুণগত মান তুলনামূলক ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি।
গত বছর এ নদী থেকে প্রায় ১৪ হাজার কেজি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল