বাংলার বর্ষার চিত্রায়ণ কেউ করেছেন কবিতায়, কেউ গানে, কেউবা উপন্যাসে, চলচ্চিত্রের ফিতায় কিংবা সংগীতে। মহাকবি কালিদাস থেকে হালের তরুণ কোনো কবির কবিতায় ও বর্ষার অনুষঙ্গ এসেছে নানা উপমা ও উৎপ্রেক্ষায়। এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত ‘এমন দিনে তারে বলা যায়/এমন ঘন-ঘোর বরিষায়’ লাইন দুটো উল্লেখ করে এ নিবন্ধের প্রারম্ভিকা করতে চাই।

‘এমন ঘন-ঘোর বরিষায়’ আসলে কী বলা যায়-কবিগুরু বলে যাননি। তবে এমন মেঘ ঘন-বর্ষার দিনে মনের অবস্থা কী রকম হয়ে যায় তা বুঝতে বাকি থাকে না।

রবীন্দ্রনাথ আমাদের জীবনের প্রতিটি অনুষঙ্গের অনুরণন তোলা কবি। তাঁর কবিতায়, গানে, গল্পে, উপন্যাসে এমন কোনো বিষয় নেই, যা আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িত নয়। আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িত এমন কোনো বিষয় নেই। যা তাঁর লেখায় ফুটে ওঠেনি। তিনি আমাদের কাছে নানা রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। বাংলা ছয়টি ঋতুর বর্ণনা তাঁর লেখায় আমরা পেয়েছি। এর মধ্যে বর্ষা বিষয়ক এত কবিতা ও গান তিনি লিখেছেন এবং সেগুলো এতটাই উৎকৃষ্ট যে, তা এক কথায় অনবদ্য। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে, নিসর্গরস উপভোগে, প্রেমের করুণ আর্তিতে, দূর অতীতের স্বপ্ন-কল্পনায়, অতীন্দ্রিয় অনুভূতিতে বিচিত্রভাবে বর্ষা, মেঘ, বৃষ্টি তাঁর কবিতায়, সংগীতে উৎকলিত হয়েছে। তিনি বাল্যবয়সেই ‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’ দিয়ে শুরু করেছেন বর্ষা-বন্দনা। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, বর্ষার দিনে, মেঘদূত, বর্ষাযাপন, বর্ষামঙ্গল, আষাঢ়, আষাঢ়-সন্ধ্যা, আবির্ভাব, বর্ষার রূপ ইত্যাদি কবিতা তাঁকে বর্ষার কবিরূপে সংস্থাপিত করেছে। তিনি ‘যায় দিন, শ্রাবণ দিন যায়’ বলে ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ উন্মাতাল হয়ে প্রিয়সীকে ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ দান করে আনমনে কিছু বলতে গিয়ে অকস্মাৎ থেমেছেন। আর থেমে গিয়ে হাজার বছর ধরে প্রেমিক হৃদয় আবেগাপ্লুত একটি স্বর গেঁথে দিয়েছেন, ‘এমন দিনে তারে বলা যায়...।’

আসলে কী বলা যায়? বলা যায় না কিছুই। শুধু অনুভূতিগুলো মনের দরোজায় কড়া নেড়ে পাখা মেলে উড়ে যেতে চায় নিঃসীম আকাশের ওপারে। কিন্তু সেখানে কি আর যাওয়া যায়? অগত্যা ‘কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা...!’ 

বজ্রের হৃৎকাঁপুনি আর ঝরো ঝরো বারিধারায় প্রকৃতির প্রেমে বিগলিত হয়ে মহাকবি কালিদাসের বিখ্যাত ‘মেঘদূত’ কাব্যের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘মেঘদূত’ কবিতায় লিখেছেন-

‘কবিবর, কবে কোন্ বিস্মৃত বরষে

কোন্ পুণ্য আষাঢ়ের প্রথম দিবসে

লিখেছিলে মেঘদূত! মেঘমন্দ্র শ্লোক

বিশ্বের বিরহী যত সকলের শোক

রাখিয়াছে আপন আঁধার স্তরে স্তরে

সঘনসংগীতমাঝে পুঞ্জীভূত করে।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মানসী’ কাব্যগ্রন্থের ‘মেঘদূত’ কবিতাটি এভাবেই শুরু হয়েছে। এই যে কবিতাটির শুরুতেই কবি পয়লা আষাঢ়ের কথাটি নিয়ে এসেছেন। ‘মেঘদূত’ কাব্যের মূল চরিত্রে আমরা পেয়েছি, যক্ষ এবং তার পত্নীকে। অলকানগরীতে তাদের নিবাস। ধনপতি কুবেরের বাগান দেখাশোনা করত আর যক্ষ ছিল কুবেরের সেবায় নিয়োজিত। একদিন হাতির পাল বাগানে ঢুকে বাগান নষ্ট করে দেয়। এ কারণে যক্ষ তার প্রভু কুবেরের শাপপ্রাপ্ত হয়ে রামগিরিতে নির্বাসিত হয়। সেখানে নির্বাসিত দিন যাপন করতে গিয়ে যক্ষ তার প্রিয়ার বিরহ অনুভব করে। এদিকে ঋতুচক্রে বর্ষা আসে, আসে আষাঢ় মাস। আষাঢ়ের প্রথম দিবসে মেঘের আগমনে প্রকৃতির নিয়মেই যক্ষের মন আকুল হয়ে ওঠে তার প্রিয়ার জন্য। বিরহী যক্ষ তখন মেঘের কাছে অনুনয় জানায়, অলকানগরীতে তার সন্দেশ প্রিয়ার কাছে পৌঁছে দেবার। প্রিয়ার কাছে মেঘকে দূত করে সন্দেশ পাঠানোর কাহিনিকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে সংস্কৃত সাহিত্যের বহুল সমাদৃত কাব্য মেঘদূত।

মহাকবি কালিদাসের ‘ঋতুসংহার’ কাব্যের ‘বর্ষা’ অধ্যায়ে বৃষ্টির চমৎকার বর্ণনা রয়েছে। নাতিদীর্ঘ এই কাব্যে মোট ২৮টি শ্লোকে মেঘের গর্জন, চাতকের তৃষ্ণা, ময়ূরের নৃত্য, প্রকৃতির সতেজ রূপ, বৃষ্টির শীতল ধারায় গ্রীষ্মের তাপ দূর হওয়া, বর্ষার রাজকীয় আগমন, নতুন বৃষ্টিতে মাটির সুবাস, নদীর উত্তাল রূপের বর্ণনা এবং ময়ূরের আনন্দের দৃশ্যও চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়াও কবি বর্ষাকে মত্ত হাতির পিঠে চড়ে আসা এক রাজার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা ইন্দ্রধনু এবং বিজলি চমকের মাধ্যমে ধরণিতে অবতরণ করে।

কবি জয়দেব গোস্বামী সংস্কৃত সাহিত্যের একজন মধ্যযুগীয় প্রসিদ্ধ কবি। তিনি গীতগোবিন্দ কাব্যের রচয়িতা। সংস্কৃত কাব্য গীতগোবিন্দের অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীর প্রভাব রয়েছে। ধারণা করা হয়, বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির সূচনা তাঁর সেই গীতগোবিন্দের পদাবলি থেকেই। কবি জয়দেব লিখেছেন,

 “গগন হয়েছে পূর্ণ নীল-মেঘ-মালে,

অরণ্য শ্যামল-বর্ণ শ্যামল তমালে,

নিশাও প্রসারে হের স্বতিমির-পুঞ্জে;

হে ভীরু শ্যামেরে তুমি লহ, গো, নিকুঞ্জে।”

শুনিয়া সখীর সেই সুখের আদেশ

চলেন নিকুঞ্জে রাই লইয়া প্রাণেশ;

পথেতে বিবিধ কেলি করেন দুজনে

কলিন্দনন্দিনী-তীরে আনন্দে বিজনে।

জয় জয় রাধা-কৃষ্ণ নিকুঞ্জ-বিহার।’

‘মেঘদূত’, ‘ঋতুসংহার’ ও ‘গীত-গোবিন্দ’র প্রভাবে বাংলার কবিগণ বর্ষার ছন্দময় কাব্য ও গীত রচনা করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন বহু রূপে বহুবার। মিলন-বিরহ ও দুঃখ-সুখের পাশাপাশি অভিসারের বাণী নিয়ে বর্ষা আবির্ভূত হয়েছে তাঁদের কাছে। বৈষ্ণব কবিবৃন্দ, বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাসের মতো কবিগণ মহাজন শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধিকার পূর্বরাগ-অনুরাগ, প্রেম-বিরহ ও মিলন বন্দনায় এবং জীবাত্মা, পরমাত্মার ভাবলালিত্যে বাংলার বর্ষাকে যে দৃষ্টি ও উপলব্ধিতে জিইয়ে রেখেছেন-পরবর্তীতে আধুনিক বাংলা কাব্যগীতিতে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল বহু দূরে বিস্তৃত করে তা সঞ্চারিত করেছেন।

বিদ্যাপতি বিরহ-মিলন-অভিসারের বর্ণনায় প্রাচীন পদাবলি কাব্য-গীতে লিখেছেন-

‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।

এ ভরা বাদর মাহভাদর

শূন্য মন্দিরে মোর!

ঝম্পি ঘন গবজন্তি সন্ততি

ভুবন ভরি বরিখণ্ডিয়া

কান্ত পাহুন কামদারুণ

সখন খর কর হন্তিয়া॥’ 

ঘনঘোর এক অন্ধকার বর্ষার রাতে চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণ অভিসারে এসেছেন। তাই চণ্ডীদাস লিখেছেন-

‘এ ঘোর রজনী মেঘের ঘটা

কেমনে আইল বাটে।

আঙ্গিনার মাঝে বঁধুয়া তিতিছে

দেখিয়া পরান ফাটে...!’

বৃষ্টির ঝরো ঝরো ধারা, মেঘের ডমরুনিনাদ, বজ্রপাত, বিজলি আর বর্ষার রূপ সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়ে কবি অক্ষয় কুমার বড়াল লিখেছেন-

‘নীল মেঘ নিরূপম

চেয়ে আছে স্বপ্নসম

চপল চেতনাসম

কভু শিহরায়...!’

রবীন্দ্রনাথের সমসাময়িক অনেক কবিই বর্ষার প্রসঙ্গ নিয়ে গান ও কবিতা লিখেছেন। কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ষার বর্ণনা এমন-

‘গ্রামে ঢোকে জল গাঙে নামে ঢল

আকাশের কোলে কোমল কাজল

এসেছে বরষা-বড় চঞ্চল...!’

কবি দেবেন্দ্রনাথ সেনের ‘শ্রাবণ’ নামের সনেটে পড়েছি-

‘মূর্তিমতী বর্ষা তুই! রিমঝিম করি

পড়ে জল, হে কণক, হে চিরদুঃখিনী,

কত মেঘ আছে তোর প্রাণের ভিতরি?

কত গরজন আছে, কত বা অশনি?’

আধুনিক গীতি কবিতার অন্যতম রোমান্টিক কবি সত্যেন দত্ত তাঁর ‘কাজরী’ কবিতায় বর্ষার বর্ণনা করেছেন এভাবে-









‘নূতন শাখে বাঁধ তোরা সই

নূতন হিন্দোল,

আজকে হাওয়ার নূতন দুয়ার

হল যে খোল!’

মোহিতলাল মজুমদারের ‘শ্রাবণ-শর্বরী’ সনেটে কালিদাস এবং বৈষ্ণব পদ কর্তাদের প্রতিধ্বনি, কিছু আবেগের উত্তাপ প্রাণের উষ্ণতা পাওয়া যায়-

‘কত আঁখিজল অশ্রুজলে বরিয়াছে শ্রাবণ শর্বরী

প্রিয়হারা বিরহী সে, বারিধারা হৃদয়বিধুর।

কত রাধা বায়ুরবে শুনিয়াছে শ্যামের বাঁশরী,

নিশীথের নীলাঞ্জনে আঁকিয়াছে বদনবঁধুর।’

রবীন্দ্রনাথের পর বাংলার কাব্যগীতে বর্ষার আবাহনী কাজী নজরুলের মতো আর কেউ লেখেননি। বর্ষার কাব্যগীতি রচনায় তিনি প্রকৃতির বর্ণনা, বিরহ-মিলনের কথা, স্মৃতিরোমন্থন, রাধা-কৃষ্ণের প্রেম, ব্যক্তিগত দুঃখ-সুখের প্রসঙ্গ ফুটিয়ে তুলেছেন। নজরুল বর্ষাকে চঞ্চল, বাদলপরী, মেঘনটী, বিজয়ী বীর, শ্যামল, তাপনাশিনী, অভিসারিকা, মেঘলা পরী ইত্যাদি নামে উল্লেখ করেছেন। তিনি বর্ষার প্রতি অনুরাগে লিখেছেন ‘বাদল দিনে’ ‘স্তব্ধ বাদল’ ‘বাদলপ্রাতের শরাব’ কবিতাগুলো। তাঁর ‘পূবের হাওয়া’ কাব্যটি বর্ষার কথাই স¥রণ করিয়ে দেয়। বাদলের ঝর ঝর বৃন্দাবনের রাধা-কৃষ্ণের প্রেম অনুষঙ্গের কথা তাঁর কবিতা ও গানে পাওয়া যায়। বর্ষার দিনে রেবা নদীর তীরে মালবিকার দেশে তাঁর প্রেমিকসত্তার জাগরণ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কালিদাসের ‘মেঘদূত’ রবীন্দ্রনাথের মতো কাজী নজরুল ইসলামেরও বর্ষাগীতিতে ছায়াপাত করেছে। তিনি শ্রীহরিকে আহ্বান করেছেন এক বর্ষামেদুর রাতে। ভক্তিপ্রিয় চিত্তে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম-বিরহের মিলনের আর্তি বর্ষার ঘন-ঘোর রাতে কিংবা দিনে স্ফুরিত হয়েছে নজরুলের মনে। তাই তিনি নির্ঝরের মতো উচ্ছল বর্ণনায় সাবলীল আবেগাপ্লুত গীত গেয়েছেন- 

‘স্নিগ্ধ শ্যামবেণী বর্ণা

এস মালবিকা

অর্জুন মঞ্জরী কর্ণে গলে

নীপমালিকা।’

আবার তিনি বিরহের সন্তাপে আকুল নিদাঘ তিয়াসায় গেয়ে উঠেছেন-

‘শাওন ফিরে এলো

সে ফিরে এলো না

বরষা ফুরায়ে গেল 

আশা তবু গেল না॥’

বর্ষা নজরুলের কাছে বিচিত্রভাবে ধরা দিয়েছে। কখনো কাজলবরণ এক পল্লীমেয়ে- যে বৃষ্টিধারায় নেয়ে বেড়ায়। কখনো গোমতী নদীর চরে খেলতে আসা মেঘপরি। এ ছাড়া প্রাচীন কবিদের বর্ণনায় বর্ষাকে ঝরঝর বৃষ্টির ধারাপাত, চঞ্চল ঘোরকৃষ্ণ মেঘের ডমরুনিনাদ, ভেক, ময়ূর, ডাহুক, বকুল-কদম-মালতী-কেতকী-কাঁঠালিচাঁপা, জাতি-যথী, মল্লিকা-কামিনী-করবী ফুলের নব তৃণদল, নবীনধান্য, পূবালী বায়, বেণু বন, জাম্বু বন, নীল অঞ্জন, কাত কপোত, ঝিল্লিরব ও কাজরী নামে পাই।

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ‘পল্লী বর্ষা’ কবিতায় বর্ষার গ্রামীণ রূপ দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন-

‘বউদের আজ কোনো কাজ নাই, বেড়ায় বাঁধিয়া রশি

সমুদ্রকলি শিকা বানাইয়া নীরবে দেখিছে বসি।

কেউবা রঙিন কাঁথায় মেলিয়া বুকের স্বপ্নখানি

তারে ভাষা দেয় দীঘল সুতার মায়াবী আখর টানি।’

‘রূপসী বাংলা’ কাব্যের ‘কেমন বৃষ্টি ঝরে’ কবিতায় কবি জীবননান্দ দাশ বর্ষার চিরন্তন দৃশ্যকল্প বর্ণনা করেছেন,

‘কেমন বৃষ্টি ঝরে-মধুর বৃষ্টি ঝরে-ঘাসে যে বৃষ্টি ঝরে-রোদে যে বৃষ্টি ঝরে আজ

কেমন সবুজ পাতা-জামীর সবুজ আরও-ঘাস যে হাসির মতো- রোদ যে সোনার মতো ঘাসে

...তোমার চুলে যে রোদ-মেঘের মতন চুলে-তোমার চোখে যে রোদ-সেও যে মেঘের মতো চোখ

কেমন বৃষ্টি ঝরে-মধুর বৃষ্টি ঝরে-ঘাসে যে বৃষ্টি ঝরে-রোদে যে বৃষ্টি ঝরে আজ।’

কবি আল মাহমুদ ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যের ‘প্রকৃতি’ কবিতায় লিখেছেন,

‘কতদূর এগোলো মানুষ!

কিন্তু আমি ঘোরলাগা বর্ষণের মাঝে

আজও উবু হয়ে আছি। ক্ষীরের মতোন গাঢ় মাটির নরমে

কোমল ধানের চারা রুয়ে দিতে গিয়ে

ভাবলাম, এ-মৃত্তিমা প্রিয়তমা কিষানি আমার।’

কবি শামসুর রাহমানের ‘এমন বর্ষার দিনে’ কবিতায় প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আজীবন মুগ্ধতা ফুটে উঠেছে, যেখানে চল্লিশটি বর্ষা পার হলেও হৃদয়ের আবেগ সতেজ থাকে। বৃষ্টির শব্দ ও মেঘলা আকাশ মানুষের মনের গভীর অনুভূতিকে ছুঁয়ে যায়, যা বর্ষাকে এক সস্নেহ সান্নিধ্য হিসেবে উপস্থাপিত করে। তিনি লিখেছেন-

‘চল্লিশটি বর্ষার সজল স্পর্শ তোমাকে আকুল

করে আজো, আজো দেখি তুমি জানালার কাছ ঘেঁষে

বাইরে তাকিয়ে আষাঢ়ের জলধারা দ্যাখো খুব

মুগ্ধাবেশে; মনে হয়, আষাঢ় তোমার মন আর

হৃদয় শ্রাবণ। তুমি এই তো সেদিন ঘন কালো

মেঘদল দেখে, শুনে বৃষ্টির জলতরঙ্গ বল্লে

নিবিড় মেদুর স্বরে, ‘এ বৃষ্টি আমার, এই বর্ষা

আমাকে সস্নেহে তার দীর্ঘ আঙুলে ছুঁয়ে যায়।’

কবি মহাদেব সাহা তার ‘এই গৃহ, এই সন্ন্যাস’ কাব্যগ্রন্থে ‘শহরে, এই বৃষ্টিতে’ কবিতায় লিখেছেন-

‘ঢাকার আকাশ আজ মেঘাচ্ছন্ন, মাধবী এখন তুমি বাইরে যেও না

এই করুণ বৃষ্টিতে তুমি ভিজে গেলে বড়ো ম্লান হয়ে যাবে তোমার শরীর

এই বৃষ্টিতে ঝরে যদি কারও হিমে তোমার কোমল দেহের আদল

মাধবী বৃষ্টিতে তুমি বাইরে যেও না। মাধবী তুষারপাতে বাইরে যেও না।’

এ ছাড়াও আধুনিক বাংলা কবিদের মধ্যে মধুসূদন, হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, মোজাম্মেল হক, কায়কোবাদ, মীর মশাররফ হোসেন, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, আহসান হাবীব, সৈয়দ শামসুল হক, রফিক আজাদ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের, শহীদ কাদরীর কবিতায়  বর্ষার চিত্র পাওয়া যায়।

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ কবিতা তেমনভাবে না লিখলেও বেশ কিছু গীতিকবিতা লিখেছেন। তাঁর জনপ্রিয় একটি গীতিকবিতায় বর্ষার বর্ণাঢ্য বর্ণনা উল্লেখ আছে। তিনি লিখেছেন-

‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো, চলে এসো এক বরষায়...।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews