সৌদি সরকার ঘোষিত হজ ব্যবস্থাপনার রোডম্যাপ অনুসারে আজ হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। প্রথমদিনে ফ্লাইট রয়েছে ১৪টি। প্রথম ফ্লাইটটি ১৮ই এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এদিকে, হজযাত্রীদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার পক্ষ হতে প্রেরিত উপহারসামগ্রী ইতিমধ্যে ঢাকা হজ অফিসে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে আল্লাহর মেহমানদের জন্য কয়েক ধরনের উপহারসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক লাখ বোতল মিনারেল ওয়াটার যা হজক্যাম্পে আগত হজযাত্রীদের সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের জন্য ব্যাকপ্যাক, ইহরাম সাবান, পানির পট, পেট্রোলিয়াম জেলি, মেসওয়াক ও আজোয়া খেজুর প্রেরণ করা হয়েছে। এসকল উপহারসামগ্রী প্যাকেটজাত করা হয়েছে এবং তা উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
হজক্যাম্প পরিদর্শন ধর্মমন্ত্রীর: ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, আমরা হজযাত্রীদের খাদেম। তাদের সেবা না করতে পারলে আমাদের পদত্যাগ করা উচিত। হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। হাজী ক্যাম্প পরিদর্শন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার সকালে হজযাত্রাকে সামনে রেখে রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সামগ্রিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং হজ ক্যাম্পে সার্বিক অবস্থা সরজমিন পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের হজযাত্রার প্রস্তুতি, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য বিষয়েও খোঁজ নেন। ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের টিম লিডারদের সঙ্গে কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পবিত্র এই সফরে যেতে পারেন সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ছাড়াও হজযাত্রীদের সেবায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি। হজ ক্যাম্পে ছারপোকা এবং মশার উপদ্রব নিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, যা করার দরকার তাই করবো।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ১৭ই এপ্রিল রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা প্রধানমন্ত্রীর। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ১৮ই এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এদিন মোট ১৪টি ফ্লাইট রয়েছে যার মধ্যে ৬টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, চারটি সৌদি আরবের সাউদিয়া ও চারটি ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের জন্য যাবেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬শে মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০শে মে হতে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা ১লা জুলাই শেষ হবে।