ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন। ছাত্ররাজনীতি থেকে কলেজের জিএস-ভিপি, এরপর যুবদল হয়ে এবার হয়েছেন সিটি প্রশাসক।
শনিবার (১৪ মার্চ) দেশের স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে ময়মনসিংহসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে নতুন পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন রোকন। মনোনয়ন না পাওয়ায় দলীয় রাজনীতির হাল ছাড়েননি। জাতীয় নির্বাচনের পর কে হচ্ছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বা কে পাবেন মেয়র পদের বিএনপি দলীয় টিকিট, এ নিয়ে নানা গল্প ছিল। নগরবাসীর মাঝে বেশি গুঞ্জন ছিলো রোকনুজ্জামান সরকার রোকনই হবেন নগরপিতা অথবা দলীয় প্রশাসক। ফলে আলোচনা বিফলে যায়নি। সরকার একজন যোগ্য নেতৃত্বকেই ময়মনসিংহ সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলে নগরবাসীর ধারণা।
প্রজ্ঞাপন জারির পর তার প্রতিক্রিয়ায় রোকনুজ্জামান সরকার রোকন আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করে যুগান্তরকে বলেন, আমি অনেক খুশি। ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করে বারবার সফল হয়েছি। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে ছাত্রনেতা, যুবনেতাসহ দলীয় বিভিন্ন পদে আসীন হয়েছি। রাজনৈতিক জীবনের নানা ধাপে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও অত্যাচার-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। জাতীয়তাবাদী আদর্শকে লালন করে দলের দুর্দিন ও সুদিনে চেষ্টা করেছি দলের সঙ্গে থাকার, দলীয় সিদ্ধান্তকে মেনে চলার।
ময়মনসিংহ সিটির প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তিনি জানান, দায়িত্ব নিয়ে তিনি নগরবাসীর সেবা করতে চান। পাশাপাশি অবহেলিত এ নগরীর বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিরুপণ করে ৩৩টি ওয়ার্ডের জনগণকে নিয়ে কাজ করতে চান।
রোকনুজ্জামান সরকার রোকনের পৈতৃক ভিটা সিটি করপোরেশন এলাকার দাপুনিয়া এলাকায় হলেও ছোটবেলা থেকেই বসবাস করেন নগরীর ৭নং ওয়ার্ডের জে সি গুহ রোড এলাকায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯১ সালে এসএসসি পাশ করার পর ভর্তি হন ময়মনসিংহ কমার্শিয়াল কলেজে। সেখানে ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হন। এরপর কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।
এরপর অবিভক্ত জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সম্পাদকও ছিলেন। দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দক্ষিণ জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। একসময়ের ছাত্রনেতা ও যুবনেতা থেকে ৫ আগস্টের পর পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিবের পদ। রাজনৈতিক জীবনের নানা ধাপে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও অত্যাচার-নির্যাতনের স্বীকার এই ত্যাগী নেতা রাজনীতিতেই নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।