ঢাকা ও কলকাতায় ভূমিকম্প অনুভূত

ছবির উৎস, BBC, Getty Images

৩ ঘন্টা আগে

পড়ার সময়: ৪ মিনিট

শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এবং ভারতের কলকাতায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি ৫.৪ মাত্রার বা মাঝারি ভূমিকম্প ছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে এটি অনুভূত হয় বলেও জানানো হয়েছে।

এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৮৮ কিলোমিটার দূরে খুলনার সাতক্ষীরা জেলার আশাসুনি উপজেলায় দেখানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএসে এটি ৫.৩ মাত্রার বলে উল্লেখ করেছে।

এদিকে, তাৎক্ষণিকভাবে আইফোনের অ্যালার্ট সিস্টেমে এটি রিখটার স্কেলে ৫.৪ ও অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের তথ্য দেখা যাচ্ছিলো।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় মাটির ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে এটি হয়েছে বলে তথ্য দিচ্ছে ইউএসজিএস।

কলকাতা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী জানিয়েছেন, সেখানেও শক্তিশালী কম্পন টের পাওয়া গেছে। অনেকে আতঙ্কে বিভিন্ন ভবন ছেড়ে রাস্তায় বা খোলা জায়গায় বের হয়ে যান।

উৎপত্তিস্থল আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইদুজ্জামান হিমু বিবিসি বাংলাকে জানান, আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নে দুটি মসজিদ ও একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে ফাটলের খবর পাওয়া গেছে। আর দুটি কাঁচা ঘর হেলে পড়েছে। তবে এর বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্ক কাজ করে ঘণবসতিপূর্ণ ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে

ছবির উৎস, Anadolu via Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

গত ২১শে নভেম্বরের ভূমিকম্পে ঢাকায়ও প্রাণহানি ও অনেক ভবনে ফাটলের খবর পাওয়া গিয়েছিল

বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প টের পাওয়া গেছে।

মাত্র একদিন আগেই গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প টের পাওয়া যায়। আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর মাত্রা ছিল ৫.১ এবং ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৪৬২ কিলোমিটার দূরে।

গত নভেম্বরে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প টের পাওয়া যায় ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে। অন্তত ১০ জন নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হওয়ার খবর জানায় সরকার। বিভিন্ন জেলায় অনেক ভবনে ফাটলের তথ্যও পাওয়া গিয়েছিল ওই সময়।

এর পর ওই সপ্তাহেই পর বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প টের পাওয়া যায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

বাংলাদেশ যে টিনটি প্লেটের সংযোগস্থল তা ম্যাপে দেখানো হয়েছে।

ছবির ক্যাপশান,

এই তিন প্লেটের সংযোগস্থলই সবচেয়ে উদ্বেগের এবং এর প্রভাবেই আজকের ভূমিকম্প হয়েছে বলছেন একজন বিশেষজ্ঞ

সবশেষ এই ভূমিকম্প নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নয় দশমিক আট কিলোমিটারকে মাটির খুব বেশি গভীরে বলা যায় না। সাতক্ষীরার এই জায়গাটি ঠিক আগে থেকে যেসব ফল্টলাইনের তথ্য ছিল তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে "নতুন করেও ফল্ট তৈরি হতে পারে" বলছিলেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার।

সেখানে ১০-১৫ বছর আগেও পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল বলে জানান তিনি।

মি. আখতার বলেন, ভূগর্ভে ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে আগে থেকেই যে কথা বারবার বলা হয়েছে তারই একটি অংশ এবারের ভূমিকম্প।

"ভারতীয় প্লেটটা যে পূর্বদিকে বার্মা প্লেটের নিচে সাবডাক্টেড হয়ে যাচ্ছে, সেখানে একটা টান তৈরি হচ্ছে, টেনশন তৈরি হচ্ছে। সেই কারণে এই ভূমিকম্পের সৃষ্টি" বলছিলেন তিনি।

তবে এখানে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কম বলেও জানান মি. আখতার। কারণ এটি যে তিনটি বড় সাবডাকশন জোনের সংযোগস্থল রয়েছে, তার চেয়ে বেশ দূরে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার

ছবির ক্যাপশান,

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার (ফাইল ছবি)

"মনে করেন একটা রাবারকে যদি দুই দিক থেকে টানতে থাকেন তাহলে একটা সময় মাঝখানে ছিঁড়ে যাবে। এখানে ঘটনাটা সেটাই হয়েছে। ইন্ডিয়ান প্লেট পশ্চিমের যে শিল্ড, হিউজ মাস সেটা টেনে ধরে রাখছে। আর পূর্ব প্রান্তে বার্মা প্লেটের নিচে এটা টলে যাচ্ছে। এই যে টেনে ধরে নিচের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তাতে টেনশনাল ফোর্স তৈরি হচ্ছে," বলছিলেন এই ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ।

তার মতে, "এখানে ৫ বা ৫.৫ বা তার নিচে ভূমিকম্প হতে পারে। কিন্তু সেটা খুব উদ্বেগের বিষয় না। বরং ডাউকি ফল্ট এবং সিলেট থেকে চট্টগ্রাম বরাবর পাহাড়ি অঞ্চল যেটিকে সাবডাকশন জোন বলা হয়, সেটাই সবচেয়ে উদ্বেগের। এটা হচ্ছে উৎস যেখানে প্রচুর পরিমাণে শক্তি জমা হয়ে আছে"।

তবে পরবর্তীতে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আরও পুঙ্খানুপুঙ্খ বলা যাবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews