কুয়ালালামপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশেষ করে বাংলাদেশি গ্রাহকদের টার্গেট করে কথিত দেহব্যবসার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। প্রতিবার সেবার জন্য সেখানে নেয়া হতো সর্বোচ্চ ৪০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত। ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টা ৫০ মিনিটে জালান কুচাই লামার একটি আবাসিক ভবন এবং জালান গেলুগরের কাছের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। এ খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ার দ্য সান।
জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় দুই সপ্তাহ গোয়েন্দা নজরদারির পর অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ২৩ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ এবং ২০ জন নারী। আটক নারীদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি, ১৪ জন ইন্দোনেশিয়ার, দু’জন ভিয়েতনামের এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। জাকারিয়া বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক কোনো বিদেশির কাছেই মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ ভ্রমণ নথি বা অনুমতিপত্র ছিল না। তিনি বলেন, আবাসিক ভবনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হতো এবং সেখানে মূলত ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের গ্রাহক হিসেবে টার্গেট করা হতো।
ইমিগ্রেশন বিভাগের ধারণা, দুটি স্থানই বিদেশি নারীদের ব্যবহার করে কথিত দেহব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, একজন বাংলাদেশি পুরুষ ও একজন থাই নারী চক্রটির মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন। তারা কর্মীদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং তাদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আবাসিক ভবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে দরজা বন্ধ রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো বলে জানিয়েছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।
এ ছাড়া একজন মালয়েশিয়ান পুরুষকে ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তে জানা গেছে, আবাসিক ভবনে ৬০ মিনিটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ রিঙ্গিত নেয়া হতো। অন্যদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৯০ মিনিটের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত। ইমিগ্রেশন বিভাগের ধারণা, চক্রটি প্রায় দুই মাস ধরে সক্রিয় ছিল।
অভিযানে চারটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার একটি করে পাসপোর্ট, বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন, কনডম এবং কথিত অবৈধ কার্যক্রম থেকে পাওয়া ১২১৫ রিঙ্গিত নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। চক্রটির বাংলাদেশি পুরুষ, থাই নারী ও মালয়েশিয়ান পুরুষ সদস্যকে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(ডি) ধারা অনুযায়ী অপরাধের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। অন্য বিদেশিদের একই আইনের ৬(১)(সি) ধারা অনুযায়ী অপরাধের সন্দেহে আটক করা হয়েছে।
আটক সবাইকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে সহায়তার জন্য সাতজন মালয়েশিয়ান পুরুষকে ইমিগ্রেশন বিভাগের সামনে হাজির হওয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে।