দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য হলো একটি সাধারণ হজমজনিত সমস্যা, যা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। সাধারণভাবে মানুষ মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলেও, এটি যখন দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে তখন সেটিকে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়।
এটি কখনও কখনও শরীরের ভেতরের অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে, তাই একে গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য কী?
যখন কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে নিয়মিতভাবে মলত্যাগে সমস্যা হয় বা অনিয়ম দেখা দেয়, তখন তাকে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। সাধারণত সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ, শক্ত মল, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া এবং অসম্পূর্ণভাবে মলত্যাগের অনুভূতি এর প্রধান লক্ষণ।
এটি সাধারণ হজমজনিত অস্বস্তির মতো সাময়িক নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন নিয়মিত হাঁটা মৃত্যুঝুঁকি ও হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়: গবেষণা
-69e712ac3a88b.jpg)
প্রধান কারণসমূহ
গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। সাধারণত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার সমন্বয়ে এটি তৈরি হয়।
আঁশের অভাব: খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ না থাকলে মল শক্ত হয়ে যায় এবং অন্ত্রে সহজে চলাচল করতে পারে না।
পানির ঘাটতি: পর্যাপ্ত পানি না পেলে মল শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যায়, ফলে তা ত্যাগ করা কঠিন হয়।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: ব্যায়াম বা নড়াচড়া কম হলে অন্ত্রের কার্যক্রম ধীর হয়ে যায়।
মলত্যাগ দেরি করা: নিয়মিত মলত্যাগের তাগিদ উপেক্ষা করলে স্বাভাবিক অভ্যাস নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কিছু ওষুধ: ব্যথানাশক, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা কিছু অ্যান্টাসিড কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করতে পারে।
হরমোন ও বিপাকীয় সমস্যা: যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম, যা হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়।
স্নায়বিক রোগ: পারকিনসন্স বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো রোগ অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
গঠনগত সমস্যা: কোলন বা রেকটামে বাধা থাকলেও মলত্যাগে সমস্যা হতে পারে।