সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ‘দরজা বন্ধ’ সংস্কৃতি চলার অভিযোগ উঠেছে। সেবা প্রার্থীদের দাবি, কর্মকর্তার কক্ষের সামনের দরজা বন্ধ থাকায় সরাসরি দেখা করা যায় না। পাশের কক্ষ ঘুরে যেতে হয়, এতে ভোগান্তি ও অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক কর্মকর্তা মো. গোলাম সাওয়ারের সময় থেকে এ প্রথার শুরু। ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, দরজা বন্ধ রেখে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের পাশের কক্ষে পাঠানো হতো এবং সেখানে নাম-বয়স সংশোধন বা নতুন ভোটার নিবন্ধনের মতো সেবায় উৎকোচ নেওয়া হতো।
বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসানের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও আলোচিত হয়। তবে কর্মকর্তা বদলি হলেও ‘দরজা বন্ধ’ প্রথা বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ।
বর্তমান নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে একইভাবে দরজা বন্ধ রেখে অফিস করতে দেখা গেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষের তালা খোলা থাকলেও দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, সেবা প্রার্থীরা সরাসরি চলে আসায় দরজা বন্ধ রাখতে হয়, তবে মাঝে মাঝে খোলা হয়।
এদিকে সিলেট জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উপজেলার বাসিন্দারা স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক