মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন’ (এমবিএফএ)-এর নতুন নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) কুয়ালালামপুরের স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় আগামী দুই বছরের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় উপস্থিত সদস্যদের সমর্থনে প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি, মো. রুহুল আমিন সরকার (সিআইপি)-কে সাধারণ সম্পাদক এবং মো. আউয়াল হোসেনকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হয়।
নবগঠিত ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাহী পরিষদের অন্য সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাফর ফিরোজ, স্থানীয় উন্নয়ন বিষয়ক প্রধান মো. মাসুদুর রহমান, সদস্যপদ ও কল্যাণ বিষয়ক প্রধান ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ কায়সার অপু, সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রধান ড. মহুয়া রায় চৌধুরী, প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার রনি মিনহাজ উল আমিন, ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক প্রধান মো. ফারহাদ হোসেন, ব্যবসা ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক প্রধান মো. কাজী নজরুল ইসলাম এবং জনসংযোগ ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রধান মো. আসিফ রায়হান চৌধুরী।
সভায় ২০২২-২০২৪ মেয়াদের কার্যক্রম ও আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের অফিসিয়াল সেক্রেটারি এস নাদারাজান উপস্থিত সদস্যদের স্বাগত জানান এবং সভার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সভাপতি প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় প্রয়াত সাবেক সভাপতি মি. নিসার কাদেরের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা এমবিএফএ বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়ার রেজিস্ট্রার অব সোসাইটির (আরওএস) অধীনে নিবন্ধিত এ অরাজনৈতিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠনটি প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
সংগঠনের নেতারা জানান, গত এক যুগের নিরলস প্রচেষ্টায় এমবিএফএ আজ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এদিকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চার প্রসারে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করতে ২০১৯ সালের নভেম্বরে এমবিএফএ-এর উদ্যোগে কুয়ালালামপুরে চালু হয় আর্ট, কালচার অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রাম (এসিএলপি)। সংগীত, নৃত্য ও বাংলা ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
বর্তমানে এসিএলপি নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম উপলক্ষে গত ১০ মে এক জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) ও হেড অব চ্যান্সারি (এইচওসি) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য, এমবিএফএ-এর সদস্যবৃন্দ, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বিদেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রবাসে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এমবিএফএ-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এসিএলপি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতেই এসিএলপি কাজ করছে। বাংলা ভাষা শিক্ষা, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও শিল্পচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নবনির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ মো. আউয়াল হোসেন বলেন, এমবিএফএ-এর মূল উদ্দেশ্য হলো মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি মালয়েশিয়ান ও বাংলাদেশিদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন গড়ে তুলতেও সংগঠনটি কাজ করছে।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, এসিএলপি-এর কার্যক্রম নতুন করে শুরু হওয়া মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন তারা।