চীনের সামরিক বাহিনী গত এক দশকে আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে অসাধারণ অগ্রগতি করেছে। গতি এতটাই বেড়েছে যে এর পরিসর, মাত্রা এবং সম্ভাব্য প্রভাব আধুনিক সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন হতে পারে বলে মনে করেন ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের উর্ধ্বতন গবেষক এবং প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকারবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের এশিয়া সম্পৃক্ততা বিভাগের পরিচালক লাইল গোল্ডস্টেইন। আধুনিক সামরিক ইতিহাসের দৃষ্টিতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলেও মনে করেন গোল্ডস্টেইন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বমানের সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার উচ্চাকাক্সক্ষা চীন দীর্ঘদিন ধরেই ঘোষণা করে আসছে। স্পষ্টতই চীন এখন সেই অবস্থানে পৌঁছেছে। পিএলএ যেসব ক্ষেত্রে এই মর্যাদা অর্জন করেছে, তার পরিধি প্রতিদিনই বাড়ছে।’ অর্থাৎ, চীন যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার বড় অংশই ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। তিনি এই রূপান্তরকে ‘পূর্ণগতিতে ছুটে চলা একটি উড়োজাহাজ’ অথবা ‘চতুর্থ গিয়ারে ওঠা একটি গাড়ির’ সঙ্গে তুলনা করেন।

চীনের পিএলএর (পিপল্স লিবারেশন আর্মি) ২০২৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা, যা প্রতিষ্ঠার শতবর্ষের সঙ্গে মিলে যায়, তাকে কেন্দ্র করে চীনের সামরিক সক্ষমতা বিচার করা ঠিক হবে না। গোল্ডস্টেইন বলেন, ‘এ কথা বলাই বাহুল্য যে, ১০ বছর পর ২০৩৭ সালে চীন অনেক, অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং কিছু কর্মসূচি এখনো পূর্ণ পরিণতিতে পৌঁছায়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো বিমানবাহী রণতরী কর্মসূচি। সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলোও এই রূপান্তরের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে। ২০২৬ সালের কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক পর্যালোচনা অনুযায়ী, চীনের নৌবাহিনীতে প্রায় ৩শ” ৩২টি জাহাজ রয়েছে, সংখ্যার বিচারে যা বিশ্বের বৃহত্তম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে বেইজিং সমন্বিত যান্ত্রিকীকরণ, তথ্যায়ন ও বুদ্ধিমত্তানির্ভর সামরিক সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে। এরপর ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিক আধুনিকায়ন মূলত সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

চীন ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক সক্ষমতার ভারসাম্যের এই পরিবর্তন ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। গোল্ডস্টেইনের মতে, শক্তির ব্যবধান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক উদ্বেগও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন আমেরিকার আধিপত্য তুলনামূলকভাবে কমছে এবং চীনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘এমন এক বিশ্বে অঞ্চলটি কোন যাচ্ছে, তা নিয়ে বেশ স্পষ্ট উদ্বেগ রয়েছে।’ ওয়াশিংটনের একাধিক সামরিক প্রতিশ্রুতিও পরিবর্তিত কৌশলগত পরিবেশকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নেয়ার ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি হ্রাস পেয়েছে। এটি দেখায় যে, বিশে^র বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে মার্কিন সামরিক প্রতিশ্রুতি চীনের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের জন্য কীভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারে। এরমধ্যে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আরও গভীর উদ্ভাবন এবং পিএলএর ২০২৭ সালের শতবর্ষের লক্ষ্য অর্জনের পথে ধারাবাহিক অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছেন, যার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক আধুনিকায়নের পথে বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews