২.
বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থান ব্যাখ্যা করতে ‘ফ্রাস্ট্রেটেড অ্যাচিভার্স’ শব্দবন্ধটি আমি প্রথম ব্যবহার করি ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, কুয়ালালামপুর থেকে সম্প্রচারিত অ্যাস্ট্রো আওয়ানির একটি সরাসরি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে। শেখ হাসিনার পতনের মাত্র তিন দিন পর দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে আমার বক্তব্য ছিল, বিদ্রোহী তরুণেরা উন্নয়নের পরাজিত পক্ষ নয়; তারা ছিল উন্নয়নের সাফল্যে তৈরি, কিন্তু তারা প্রতিশ্রুত সুযোগ থেকে বঞ্চিত একটি প্রজন্ম।
গত দুই বছরে জুলাইয়ের রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে আমার বিশ্লেষণের কেন্দ্রে এই ব্যাখ্যাই থেকেছে। কারণ, এটি একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন-সাফল্য এবং সেই সাফল্যের মধ্যেই জন্ম নেওয়া বিদ্রোহের আপাতবিরোধটি ধরতে সাহায্য করে।
এখানে ‘আপেক্ষিক বঞ্চনা’র ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ শুধু তার বর্তমান আয় কিংবা অবস্থান দিয়ে সন্তুষ্টি বিচার করে না; সে প্রত্যাশা, যোগ্যতা এবং অন্যদের পাওয়া সুযোগের সঙ্গেও নিজের অবস্থার তুলনা করে। তাই একই অর্থনৈতিক বাস্তবতা কম শিক্ষিত ও কম উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজে যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, শিক্ষার বিস্তার ও যোগাযোগপ্রযুক্তির যুগে তা ভিন্ন হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং রাষ্ট্রের সাফল্যের ভাষ্য শুনতে থাকা তরুণেরা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করে—উন্নয়নের মধ্যে আমার জায়গাটি কোথায়?