রাষ্ট্র পরিচালনায় উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন করা ইতিহাসের সব যুগেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে বিবেচিত হয়েছে। প্রাচীন ভারতে দুর্নীতিগ্রস্ত নন্দ বংশের পতনের পর মৌর্য সাম্রাজ্যের উত্থান ঘটে, যার পেছনে ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও তাঁর রাজনৈতিক গুরু চাণক্য। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সিংহাসনে আরোহণ ও পরবর্তীকালে চাণক্যর প্রজ্ঞা প্রাচীন ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থায় মন্ত্রী নিয়োগের কঠোর মানদণ্ডের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এই ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়, রাষ্ট্র পরিচালনা শুধু ক্ষমতা দখলের বিষয় নয়; এর জন্য প্রয়োজন দক্ষতা, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও কৌশলগত দূরদর্শিতা।
চাণক্যের রচিত কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে প্রাচীন ভারতীয় রাষ্ট্রে অমাত্য ও মন্ত্রী নিয়োগের কিছু মানদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এমন মানুষ প্রয়োজন যিনি জ্ঞানী, বিচক্ষণ, স্মৃতিশক্তিতে প্রখর, যুক্তিবাদী, সাহসী ও কাজের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। একই সঙ্গে তাঁকে হতে হবে সদাচারী, ধৈর্যশীল, গর্বশূন্য, কষ্টসহিষ্ণু ও মানুষের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে পারদর্শী। অর্থাৎ প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বের সমন্বয় আছে এমন ব্যক্তিকেই মন্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত মনে করা হতো।
যদিও প্রাচীন রাজতন্ত্র আর আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে বড় পার্থক্য আছে, তবু একটি বিষয় একই থাকে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট অঞ্চল, জনগোষ্ঠী ও ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও সংবেদনশীলতা থাকা জরুরি।