আরামবাগকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের শেষ চার নিশ্চিত করেছে দেশের ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। শিরোপা প্রত্যাশি মোহামেডানের সামনে টিকে থাকার লড়াইয়ে জয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে সমর্থকদের হতাশ করেননি তপু-মিঠুরা। সৌরভ দেওয়ানের হ্যাটট্রিকে ৪-০ গোলের দাপুটে জয়ে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়ে দিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে সাদা-কালোরা। যদিও এই দলটির বিপক্ষেই বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) প্রথম লেগে ১-১ গোলের ড্র দেখেছে তারা।
গতকাল মঙ্গলবার ময়মনসিংহের ভাষা শহীদ রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে জুয়েল মিয়া দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর হ্যাটট্রিক করেন সৌরভ দেওয়ান। ‘বি’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের আগে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল পুলিশ এফসি। ৫ পয়েন্ট করে ছিল বসুন্ধরা কিংস, মোহামেডান ও ফর্টিস এফসির। ফলে প্লে-অফে ওঠার হাতছানি ছিল সবার সামনে। শেষ পর্যন্ত দারুণ জয়ে সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে এগিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে বসুন্ধরা কিংস। আর গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছে মোহামেডান।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোল পেতে কিছুটা সময় নেয় মোহামেডান। ৩৬ মিনিটে বক্সের একটু বাইরে থেকে এলি কেকের ফ্রি-কিক পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। তিন মিনিট পরই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় তারা। নিজেদের মধ্যে বল আদান-প্রদান করে মাঝমাঠ থেকে ক্রস বাড়ান কেকে। ছুটে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন জুয়েল।
বিরতির পর আরও দুর্বার হয়ে ওঠে সাদা-কালোরা। ৬৮ মিনিটে সতীর্থের লং পাসে সৌরভ বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। চার মিনিট পর আরামবাগ সমতায় ফেরার ভালো সুযোগ পায়, কিন্তু সতীর্থের ফ্রি-কিকে গোলমুখে আরিফুল হেড করতে ব্যর্থ হন। ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মোহামেডান। কাজী রাহাত সতীর্থকে আড়াআড়ি ক্রস দিতে গিয়ে তালগোল পাকালে বক্সের ভেতরে পাওয়া সুযোগ হেডে কাজে লাগান সৌরভ। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে বক্সের ভেতর থেকে নিচু জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে সতীর্থের থ্রু পাসে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙ্গে বেরিয়ে এসে বাম পায়ের কোনাকুনি শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সৌরভ। এর মধ্য দিয়ে গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় জয়ে নিশ্চিত হয় মোহামেডানের প্লে-অফ।