ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
Author,
শুভজ্যোতি ঘোষ
Role,
বিবিসি নিউজ বাংলা, দিল্লি
৪ ঘন্টা আগে
পড়ার সময়: ৮ মিনিট
বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক মাস পূর্ণ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে এক ধরনের স্থবিরতা বা শীতলতা ছিল, তাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, ভারতের চোখে সেটি ছিল একটি 'অনির্বাচিত' সরকার – দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া তাদের আর কোনো ম্যান্ডেট নেই, এমন দাবিও দিল্লির পক্ষ থেকে তখন একাধিকবার করা হয়েছে।
সেই যুক্তিতেই দিল্লি ঢাকার সঙ্গে 'এনগেজমেন্ট' কার্যত স্থগিত রেখেছিল। গুরুত্বপূর্ণ সব দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থমকে গিয়েছিল, হাই-প্রোফাইল সফরগুলোও বন্ধ ছিল – এমন কী দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের রাস্তাতেও হেঁটেছিল।
সে সময় ভারতের ঘোষিত অবস্থান ছিল, আগে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসুক – আর সেটা যে দলেরই সরকার হোক না কেন, তাদের সঙ্গে 'ডিল' করতে দিল্লির কোনো আপত্তি নেই।
এখন গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে তা আন্তর্জাতিক স্তরেও রীতিমতো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে – এবং সেই ভোটে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি গরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।
১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রথম যে বিশ্বনেতারা ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান, তাদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, সে দিন বিকেলে তিনি টেলিফোনেও মি রহমানের সঙ্গে কথা বলেন।
দেড় বছরের একটা 'পজ' বা বিরতির অবসানে দিল্লি যে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আবার সহজ করে তুলতে চাইছে, সেই ইঙ্গিত সে দিনই পাওয়া গিয়েছিল। এমন কী দল হিসেবে বিএনপি-র সঙ্গে ভারতের একদা অস্বস্তিকর সম্পর্কও আপাতদৃষ্টিতে তাতে বাধা হয়নি।

ছবির উৎস, PTI
ছবির ক্যাপশান,
তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
কিন্তু বরফ গলার মধ্যে দিয়ে যে নতুন করে যে সম্পর্কের যাত্রা শুরু, তা কি সত্যিই শেষমেশ প্রত্যাশিত পথে এগোবে?
ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দু'পক্ষেরই বিপুল পরিমাণে 'স্টেক' বা স্বার্থ আছে তাতে যেমন কোনো সন্দেহ নেই, তেমনি দুটো দেশের রাজনীতিতেই অন্য দেশের গভীর ছায়াপাতও একটি বাস্তবতা।
মানে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন 'ইন্ডিয়া ফ্যাক্টরে'র গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি ভারতের রাজনীতিতে – বিশেষ করে পূর্ব সীমান্তের রাজ্যগুলিতে – বাংলাদেশও বরাবরই একটি আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক ইস্যু।
ফলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা – না কি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা – কোন বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বেশি প্রভাব ফেলে সেটাও একটা দেখার বিষয় হবে অবধারিতভাবে।
এই পটভূমিতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে কোন পথে যেতে পারে, তা অবশ্যই কয়েকটি নির্দিষ্ট 'ইন্ডিকেটর' বা সূচক দিয়ে পরিমাপ করা যেতে পারে।
পরবর্তী কয়েক মাসে এরকমই পাঁচটি সূচক বা লক্ষণ কী কী হতে পারে, তারই সুলুকসন্ধান থাকছে এই প্রতিবেদনে।
বাইরের যে দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক ভারতে আসতেন, বিলেত-আমেরিকাকে ছাপিয়ে টানা বেশ কয়েক বছর ধরে সেই স্থানটি ছিল বাংলাদেশের দখলে।
কোভিড মহামারির ঠিক আগের বছরেও চিকিৎসা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য বা কেনাকেটা-সহ নানা কারণে প্রায় বিশ লক্ষ বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন।

ছবির উৎস, AMIT GHOSH/Middle East Images/AFP via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে অনেকের প্রিয় জায়গা কলকাতার নিউমার্কেট (ফাইল চিত্র)
কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে ভারত বাংলাদেশে তাদের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সেই পরিসংখ্যান হু হু করে কমে আসে।
বাংলাদেশে গত দেড় বছরে ভারত শুধুমাত্র কিছু মেডিকেল বা ইমার্জেন্সি ভিসাই ইস্যু করেছে, আর সেই সঙ্গে কিছু সংখ্যক 'ডাবল এন্ট্রি' ভিসা – ইউরোপগামী ও ওয়ার্ক পারমিট-প্রত্যাশী বহু বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতে এসে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে যেটির প্রয়োজন হয়।
তবে এই ধরনের ভিসার সংখ্যাও আগের তুলনায় ছিল একেবারেই কম।
তবে গত এক মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত একাধিক ভারতীয় কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন, ভারত এবারে ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পথে এগোবে – এবং পর্যটন ভিসা দেওয়াও শুরু করবে।
সত্যিই যদি সেটা আগামী কিছুদিনের ভেতরে হয়, তাহলে বোঝা যাবে ভারতের তরফ থেকেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সহজ করার একটা তাগিদ দেখা যাচ্ছে।
যখন কোনো দেশের নতুন সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব নেন, তখন তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে কোন দেশটিকে বেছে নেন, সেটা ওই সরকারের পররাষ্ট্রনীতি বা কূটনীতির অগ্রাধিকার নিয়ে অবশ্যই একটা জোরালো বার্তা দেয়।
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরে কোথায় যান, সেটাও ঠিক এই কারণেই দেখার বিষয় হবে।
তিনি যদি প্রথম সফরে দিল্লিতে আসেন, তাহলে বোঝাই যাবে বিএনপি-র রাজনীতির সঙ্গে যে ভারত-বিরোধিতার তকমাটা এর আগে জুড়ে ছিল সেটা থেকে তার সরকার বেরোনোর চেষ্টা করছে।

ছবির উৎস, Kazi Salahuddin Razu/NurPhoto via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
তারেক রহমানের শপথগ্রহণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্য দিল্লি না এসে প্রথম সফরে সৌদি আরব, বেজিং, ওয়াশিংটন বা এমন কী কাঠমান্ডু, কলম্বো বা ইসলামাবাদেও যেতে পারেন – আর তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই পদক্ষেপ নিয়ে অবশ্যই কাটাছেঁড়া হবে।
আবার এমনও হতে পারে, তিনি নিজে প্রথমেই ভারত সফরে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন।
প্রথম সারির বিশ্বনেতাদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীই যদি ঢাকায় নতুন সরকারের প্রথম অতিথি হন, সেটাও কম তাৎপর্যপূর্ণ হবে না।
বস্তুত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরই নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে, কিন্তু সেখানে ইতিমধ্যেই পারস্পরিক সফর নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়েছে কি না আমাদের জানা নেই।
তবে তারেক রহমান যদি সত্যিই ভারত সফরে আসেন, সেটা মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর্ব মেটার আগে নয় – দিল্লিতে কূটনৈতিক সূত্রে আপাতত এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
গত বছরের (২০২৫) অগাস্টে তিনটি ওয়ান ডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল – যে সফর শেষ মুহুর্তে বাতিল করা হয়।
বিবিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) তখন বিসিবি বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়েছিল, অনিবার্য কারণে এখন ভারতের পক্ষে বাংলাদেশে খেলতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না – এই সফরটি বরং আগামী বছরে রিশিডিউল করা হোক।
বিসিসিআই যে নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইশারাতেই সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল – এ কথাও ছিল 'ওপেন সিক্রেট'। অর্থাৎ সফর পিছোনোর কারণ ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক।
এখন দিনকয়েক পরেই ভারতে শুরু হচ্ছে আইপিএল টুর্নামেন্টের মরশুম, ফলে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরে যেতে হলে আগামী জুনের আগে তা সম্ভব নয়।
কিন্তু চলতি বছরে সেই প্রস্তাবিত 'রিশিডিউলড' সফরটি আদৌ হবে কি না, এবং ভারতীয় বোর্ড বাংলাদেশকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না – সেটা এখনো পুরোপিুরি নিশ্চিত নয়।
এর মাঝে ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে আরও অবনতি হয়েছে – ভারতীয় বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্স স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বলার পর বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতেই অস্বীকার করেছে, যার কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই তাদের বাইরে থাকতে হয়েছে।
সেই তিক্ত ঘটনাপ্রবাহের জেরে ভারতীয় দলের পরবর্তী বাংলাদেশ সফর নিয়েও একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ছবির উৎস, Tanvin Tamim/Drik/Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
মুস্তাফিজুর রহমান (ফাইল চিত্র)
তবে ভারত যখন ২০২৬-এর জুন নাগাদ সফরটি 'রিশিডিউল' করার প্রস্তাব দিয়েছিল তখন তাদের ধারণা ছিল ওই সময়ের মধ্যে ঢাকায় একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসে যাবে এবং সফরের পরিবেশও অনেক অনুকূল থাকবে।
সেই ধারণা ইতিমধ্যেই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে, এখন ভারত যদি তাদের কথা রাখে – তাতেও বোঝা যাবে দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফও ইতিবাচক দিকেই মোড় নিচ্ছে।
গত দেড় বছরের ওপর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ।
কলকাতা-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, কলকাতা ও খুলনার মধ্যেকার বন্ধন এক্সপ্রেস বা কমলাপুর-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচলকারী মিতালি এক্সপ্রেসের চাকাই রেললাইনে গড়ায়নি সেই ২০২৪-র জুলাই থেকে।
আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবাও তখন থেকেই বন্ধ – যদিও অতি সম্প্রতি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত বাস চলাচল আবার খুব সীমিত আকারে শুরু হয়েছে।
অথচ এই সংযোগগুলো দুই দেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক (পিপল টু পিপল কনট্যাক্ট) শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ভারত আর একটি যে কানেক্টিভিটি প্রকল্পের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে, সেটি হল আগরতলা ও আখাউড়ার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন।
এই রেললাইনটুকু তৈরি হয়ে গেলে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ভূখন্ড দিয়ে সরাসরি আগরতলায় ট্রেনে চেপে যাওয়া যাবে মাত্র কয়েক ঘন্টাতেই – প্রায় চল্লিশ ঘন্টার জার্নি এক ধাক্কায় কমে আসবে মাত্র আট-দশ ঘন্টায়।

ছবির উৎস, Lalage Snow/AFP via Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস (ফাইল চিত্র)
ভারত এই কারণেই আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগকে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি 'গেমচেঞ্জার' হিসেবে দেখে থাকে। কিন্তু দিল্লির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির কাজও থমকে আছে বহু মাস ধরে।
অথচ সীমান্তে প্রকল্পের অতি সামান্য অংশের কাজই বাকি – বাকি কাজ ২০২৩/২০২৪ নাগাদই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন তারেক রহমানের নতুন সরকারের আমলে এই 'সামান্য অসমাপ্ত' প্রকল্পটি শেষ হয় কি না, এবং হলে কত তাড়াতাড়ি হয় – সেটা অবশ্যই দেখার বিষয় হবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'কানেক্টিভিটি'-কে ভারত বরাবর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং এই খাতে বিপুল বিনিয়োগও করেছে, কারণ বিশেষ করে ভারতের জন্য এই সংযোগ নানা কারণে খুব প্রয়োজন।
এখন সেই কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর কী গতি হয় এবং দুই দেশের মধ্যে ট্রেন-বাস চলাচল আবার কবে শুরু হয় – সেটাও দুই সরকারের মধ্যে সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট একটা বার্তা দেবে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে যে গঙ্গা জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার তিরিশ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বরেই।
এখন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি কোন শর্তে নবায়ন হবে – আগের আকারেই সেটি বহাল থাকবে না কি দুই দেশই চুক্তির শর্তে পরিবর্তন চাইবে – সেই আলোচনাও কিন্তু থমকে আছে বহুদিন ধরে।
এখন যেটা চলছে তা হল নেহাত টেকনিক্যাল আলোচনা ও দু'দেশের মধ্যে নিয়মমাফিক তথ্যের আদানপ্রদান।

ছবির উৎস, Farakka Barrage Project
ছবির ক্যাপশান,
ফরাক্কা বাঁধ
কিন্তু চুক্তির নবায়ন করতে হলে যে রাজনৈতিক পর্যায়ের অংশগ্রহণ দরকার, সেটি এখনও হয়ে ওঠেনি। অথচ দুই দেশেরই জানা আছে, সময়মতো চুক্তিটির নবায়ন না হলে গঙ্গার জল ভাগাভাগি নিয়ে বিরাট জটিলতার সৃষ্টি হবে।
এখন তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদী সরকারের মধ্যে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি সেই আলোচনা শুরু হয় (কারণ হাতে সময় মাত্রই কয়েক মাস), তাহলে সেটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।
বোঝা যাবে যে একটি জটিল সমস্যার নিষ্পত্তিতে দুই সরকারের দিক থেকেই তাগিদ আছে এবং তারা একে অন্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এনগেজমেন্টগুলো করতে প্রস্তুত।
এদিকে ভারতের পার্লামেন্টে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি-রা সম্প্রতি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে যে সব প্রস্তাব এনেছেন বা প্রশ্ন তুলেছেন, তা থেকে স্পষ্ট চুক্তি নবায়নের আলোচনায় তারাও অংশ হতে চায়।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনও একেবারে দোরগোড়ায়, রাজ্যের ক্ষমতায় যদি ভোটের পর তৃণমূল কংগ্রেসই থাকে তাহলে গঙ্গা চুক্তির আলোচনায় তাদের মতামত উপেক্ষা করা কেন্দ্রের পক্ষে কঠিন হবে।
বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি বা তৃণমূল কংগ্রেসের যে অবস্থান – পশ্চিমবঙ্গের ভোট মেটার আগে তাতে খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়।