দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের বিরতির উদ্দেশে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।  লেবাননে ইসরাইলি হামলা নিয়ে শেষ মুহূর্তের জটিলতা তৈরি হলেও, তেহরান যুদ্ধবিরতির শর্তে অংশগ্রহণে রাজি হওয়ায় সেই বাধা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসলামাবাদের বৈঠকের আগে একটি সমঝোতামূলক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ইসলামাবাদে এসে সংলাপে অংশ নেবে’।  তিনি এটিকে শান্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রক্রিয়াটি এখন একটি ‘কঠিন পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে এবং এটি ‘হয় সফল, নয় ব্যর্থ’ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি থেকে স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোনোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

পাকিস্তানে পা রাখা মার্কিন প্রতিনিধি দলে কারা আছেন?


পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে  শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে ইসলামাবাদে পৌঁছায় ইরানি প্রতিনিধিদল।  তাদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক, চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে বহনকারী একটি বিমানও পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এসে পৌঁছেছে।  দ্য গার্ডিয়ান বলছে, মার্কিন দলের নেতৃত্বে আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার। 

ইসহাক দার আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেবে এবং পাকিস্তান একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করে যাবে।

১৯৭৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হতে যাচ্ছে। তবে লেবাননে ইসরাইলি  হামলা বন্ধ না হলে ইরান আলোচনায় অংশ নেবে না—এমন শর্ত দেওয়ায় আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

ইরানি স্পিকার গালিবাফ স্পষ্ট করে জানান, ইরানের অংশগ্রহণ দুটি শর্তের ওপর নির্ভর করছে—লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং বিদেশে জব্দ থাকা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।  এই শর্তগুলো পূরণ না হলে আলোচনা শুরু হবে না। 

দিনভর ইসলামাবাদ, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নেপথ্যে তীব্র যোগাযোগ চলতে থাকে, যেখানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোরও সম্পৃক্ততা ছিল।  এর কিছু ইতিবাচক ফল দেখা গেছে—বৈরুত ও দাহিয়ায় ইসরাইল হামলা কমিয়েছে, যা ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করে। তবে দক্ষিণ লেবাননের অন্যান্য এলাকায় হামলা অব্যাহত রয়েছে। 

গত ৮ এপ্রিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইল লেবাননে শতাধিক হামলা চালালে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ইরান মনে করে, যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টে প্রযোজ্য হওয়া উচিত, যার মধ্যে হিজবুল্লাহও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল লেবাননের হামলাকে যুদ্ধবিরতির বাইরে হিসেবে দেখছে—এই মতপার্থক্য বারবার আলোচনাকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

বিশ্বের নজর এখন ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’-এ

বিশ্বের নজর এখন ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’-এ

ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এই আলোচনা ইতিবাচক হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকভাবে আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে সময়ক্ষেপণের কৌশল তারা মেনে নেবে না।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর সুরে বলেন, ইরানের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে আবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের বিধিনিষেধেরও সমালোচনা করেন।

আলোচনার এজেন্ডা বেশ জটিল। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হলেও, উভয় পক্ষের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে চাইছে—বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানো ও পারমাণবিক উপাদান অপসারণের বিষয়ে।  অন্যদিকে ইরান চায় পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তাদের পারমাণবিক অধিকার স্বীকৃতি, হরমুজ প্রণালিতে  নৌচলাচলের কাঠামো এবং জব্দকৃত অর্থ ফেরত।

এ ছাড়া আঞ্চলিক প্রভাববলয়, ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসীমা এবং ছাড় দেওয়ার ক্রম নিয়েও মতভেদ রয়েছে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

কোথায় হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা

কোথায় হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা

বিশ্লেষকদের মতে, এত বিস্তৃত ইস্যু থাকায় দুই দিনের এই প্রাথমিক বৈঠকে বড় কোনো অগ্রগতি আসার সম্ভাবনা কম। তবে এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি করতে পারে বা অন্তত উত্তেজনা কমাতে কিছু প্রাথমিক সমঝোতা হতে পারে।

সব মিলিয়ে প্রত্যাশা সতর্ক।  তবুও ইসলামাবাদে এই আলোচনা একটি বিরল কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও লেবাননে চলমান সহিংসতা, উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের গভীর অবিশ্বাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ডন



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews