কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২৪ হাজার আটটি মামলা বিচারাধীন। একজন বিচারক ও প্রেষণে থাকা চারজন কর্মচারী দিয়ে চলছে এসব মামলার কার্যক্রম। মামলার সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এতে বছরের পর বছর ধরে মামলার সাথে যুক্ত থাকা অনেক বিচারপ্রার্থীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

তবে, গত ছয় মাসে ৮৪২টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন বর্তমান বিচারক এ এস এম আনিসুল ইসলাম।

মামলার চাপ কমাতে ট্রাইব্যুনালটিতে আরো বিচারক ও স্থায়ী জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা। তাদের মতে, অতিরিক্ত বিচারক ও প্রয়োজনীয় জনবল দেয়া হলে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

সোমবার (৩ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শনকালে কথা হয় ইটনা উপজেলার গোপদীঘি ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী দুলাল মিয়ার সাথে। তিনি প্রায় ১৩ বছর আগে তার জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা করেন। এতদিন পরেও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে মামলা চলায় নিজের জীবদ্দশায় রায় দেখে যেতে পারবেন কি-না, তা নিয়েও সংশয়ে আছেন তিনি।

একই সময় কথা হয় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের চড়পাড়া গ্রামের মরহুম আবদুল কুদ্দুছের ছেলে আবদুস সাত্তারের সাথে। তার বাবা আবদুল কুদ্দুছ ও দুই চাচা সোরাফ মিয়া ও মুসলিম মিয়া ২০১৩ সালে বাড়ির জমির রেকর্ড সংশোধনের ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। এরই মধ্যে তার বাবা ও দুই চাচা মারা গেছেন। তারা মামলার রায় দেখে যেতে পারেননি। মামলার খোঁজ নিতে ট্রাইব্যুনালে এসেছেন আবদুস সাত্তার।

আবদুস সাত্তার জানান, গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে আগের তুলনায় মামলার দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তি হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। এর জন্যই মামলার তদারকি করতে এসেছেন। তার আশা, দুই-তিন মাসের মধ্যেই যেন তার মামলার নিষ্পত্তি হয়।

ট্রাইব্যুনালের সেরেস্তা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ৪৫ হাজারের বেশি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে মাত্র আট হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়। মামলার চাপ কমাতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলা আদালতে ট্রাইব্যুনাল থেকে এক হাজার করে মোট ১৩ হাজার মামলা স্থানান্তর করা হয়। এরপর ট্রাইব্যুনালে ২৪ হাজার আটটি মামলা বিচারাধীন থাকে।

সূত্র জানায়, এসব মামলার মধ্যে গত ছয় মাসে ৮৪২টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে কিছুটা আশার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ছয় মাসে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বর্তমান বিচারক এ এস এম আনিসুল ইসলাম জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত সময় দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

তিনি আরো বলেন, একজন বিচারকের পক্ষে এত বিপুল সংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন। তাই ট্রাইব্যুনালে নিজস্ব জনবলসহ অন্তত আরো দু’জন বিচারক নিয়োগ করা প্রয়োজন। তা না হলে অনেক বিচারপ্রার্থী তাদের করা মামলার রায় দেখে যেতে পারবেন না।

দ্রুত মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য সরকার ও আইন মন্ত্রণালয়ের জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews