অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউ) ১৯৮৩ ব্যাচের তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক পুনর্মিলনী।
গতকাল রবিবার ‘গ্লোবাল রিইউনিয়ন গ্র্যান্ড ডিনার ও গালা নাইট ২৬’ শীর্ষক আয়োজনটি রকডেলের একটি ফাংশন সেন্টারে জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়।
গত ৩ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত আয়োজিত এ পুনর্মিলনীতে বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রিশজনের বেশি প্রখ্যাত কৃষিবিদ অংশগ্রহণ করেন। যা প্রবাসে কৃষিবিদদের আবেগঘন পরিবেশে এক বিরল মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে তোজাম্মেল হক মুকুল ও জাকিয়া বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। শুরুতে হাফেজ ডা. মুরসালিন বাহার পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন। পরে নাবিহা রহমান কনক অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী ও ভূমির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘অ্যাকনলেজমেন্ট অব কান্ট্রি’ পাঠ করেন। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন কৃষিবিদ রঞ্জনা সরকার ছবি।
মঞ্চে স্থানীয় আয়োজক কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন কৃষিবিদ এ ওয়াই এম তোজাম্মেল হক মুকুল। আয়োজক কমিটির পক্ষে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন কৃষিবিদ করিম ইকবাল। তিনি অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের জন্য কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক আবুল সরকার এবং সিডনির বিশিষ্ট সংগঠক কায়সার আহমেদকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানের অন্যতম একটি মুহূর্ত ছিল ৬৫ বছরে পদার্পণ করা অংশগ্রহণকারী কৃষিবিদদের সম্মানে কেক কাটা। এ সময় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কৃষিবিদ অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক আবুল সরকার এ ধরনের আন্তর্জাতিক পুনর্মিলনীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কৃষিবিদদের মধ্যে বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে এবং পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি গত তিনদিনে সিডনির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান অপেরা হাউস, হারবার ব্রিজ, ব্লু মাউন্টেন, ম্যানলি ও বন্ডাই বিচ ভ্রমণের ছবিও প্রদর্শন করা হয়।
গান, গল্প ও স্মৃতিচারণায় ভরপুর প্রাণবন্ত ও আবেগঘন আয়োজনের পর অতিথিদের জন্য নৈশভোজে সবাই পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ স্মারক ‘মেলবন্ধন’-এর মোড়ক উন্মোচনের পর অংশগ্রহণকারী অতিথিদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আয়োজকদের সহধর্মিণীরা।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন কৃষিবিদ হাফিজুর রহমান বাবু ও তার দল। এছাড়া অংশ নেন ড. রঞ্জনা সরকার, জাকিয়া বেগম ও রাজন কুমার সেন। আবৃত্তি করেন মাহদিয়া রহমান শৌনক, লিনিন নাহার হোসেন ও ফেরদৌস বাহার। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী, অতিথি ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন তোজাম্মেল হক মুকুল।
বিডি-প্রতিদিন/এমই