আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ কয়েক বছরে দেশের অর্থনীতি নানামুখী সংকটে পড়েছিল। ডলারের তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগও জোরালো হয়। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণনির্ভর বড় প্রকল্প এবং আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়তে থাকে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে অর্থনীতির পতনের গতি থামানোর চেষ্টা করে। বিনিময় হার ও ব্যাংক খাতে কিছু সংস্কার শুরু হয়। ডলারের সরবরাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসে। তবে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বলই থেকে যায়।
বর্তমান সরকার তাই তুলনামূলক স্থিতিশীল একটি বৈদেশিক মুদ্রাবাজার পেলেও সামগ্রিকভাবে দুর্বল অর্থনীতিই উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। সরকারের সামনে এখন মূল্যস্ফীতি আরও কমানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, ঋণপ্রবাহ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর দায়িত্ব। ব্যবসার অপ্রয়োজনীয় বাধা কমাতে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন এবং বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও নীতি সুদের হার কমিয়েছে। তবে দুর্বল ব্যাংক খাত, বড় রাজস্ব ঘাটতি এবং সাম্প্রতিক তীব্র জ্বালানিসংকট অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না হলে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। এতে পণ্যের দাম বৃদ্ধির উপলক্ষ তৈরি হয়। গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ পান না। বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা থাকে। সার্বিকভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না।