উত্তরপ্রদেশের সম্বল জেলার একটি মসজিদে নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের সংখ্যা ২০ জনে সীমাবদ্ধ করার সরকারি নির্দেশকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ সুপার (এসপি) এবং জেলা শাসকের (ডিএম) তীব্র সমালোচনা করেছে আদালত।
বিচারপতি অতুল শ্রীধরন এবং বিচারপতি সিদ্ধার্থ নন্দনকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ, মুনজির খান নামক এক ব্যক্তির করা একটি আবেদনের শুনানি চলাকালীন সম্বল জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসকের বিরুদ্ধে কড়া পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। আদালত তাঁদের উদ্দেশ্যে বলে যে, যদি তাঁরা আইনের শাসন বজায় রাখতে অক্ষম মনে করেন, তবে তাঁদের নিজেদের পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত অথবা অন্য জায়গায় বদলি নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
এর আগে, স্থানীয় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে পবিত্র রমজান মাসে ওই মসজিদে মাত্র ২০ জন মুসল্লিকে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়।শনিবার এই মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ব্যক্তিগত জমিতে প্রার্থনার অধিকার খর্ব করার কোনো অধিকার প্রশাসনের নেই। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, "আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে প্রশাসন এভাবে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে মানুষের সমাগম সীমিত করতে পারে না।"
আদালত আরও জোর দিয়ে বলেছে, যদি কোনো স্থান ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হয়, তবে সেখানে প্রার্থনা করার জন্য সরকারের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র তখনই সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে, যখন প্রার্থনা জনসমক্ষে বা সরকারি জমিতে অনুষ্ঠিত হয়।
আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, "যদি পুলিশ সুপার এবং জেলা শাসকের মনে হয় যে, তারা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম নন, তবে তাদের পদত্যাগ করা উচিত অথবা সম্বল থেকে বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া উচিত।"
আদালত রাজ্য সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে উপাসনা করার অধিকার রয়েছে এবং সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
মুনাজির খানের দায়ের করা আবেদনে অভিযোগ করা হয়, রমজান মাসে সমভলের গাটা নম্বর ২৯১-এর একটি মসজিদে রাজ্য কর্তৃপক্ষ মুসলমানদের নামাজ পড়তে বাধা দিচ্ছে। তিনি জানান, পবিত্র রমজান মাসে সেখানে আরও অনেক বেশি মুসল্লির সমাগম হওয়ার কথা থাকলেও, প্রশাসন শুধুমাত্র ২০ জন মুসল্লিকে নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল।