১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ। ভোরে মৌলভীবাজার জেলা শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে সহপাঠী বন্ধুদের নিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেন কয়েকজন তরুণ-যুবক। লক্ষ্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যাতে সহজে শহরে প্রবেশ করতে না পারে। পাক সেনারা শহরে প্রবেশের চেষ্টা করে বাধার মুখে পড়ে। ব্যারিকেড দেয়া তরুণ-যুবকদের কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে ধরে নিয়ে যায় ক্যাম্পে। সেখানে চালানো হয় বর্বর নির্যাতন। ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয় কয়েকজনকে। ভাগ্যক্রমে সেখান থেকে ফিরতে পেরেছিলেন কয়েকজন।
এই ভাগ্যবানদের একজন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা (পরবর্তীতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের নির্বাচিত ভিপি) মতিউর রহমান চৌধুরী। পাকসেনাদের হাতে আটক এবং কয়েকজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার পর খবর চাউর হয় তিনিও আর বেঁচে নেই। গ্রামের বাড়িতে দোয়া-শিরনির আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও পাকসেনাদের হাতে এই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হতাহতের খবর প্রচারিত হয়। ২৬শে মার্চের এই প্রতিরোধ থেকেই জেলায় শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। কিন্তু আজও সেই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলেনি।
প্রতিরোধ যুদ্ধের সূচনাকারী তৎকালীন ছাত্রনেতা মতিউর রহমান চৌধুরী নিজে সাংবাদিকতায় যুক্ত হয়ে দেশবরেণ্য সাংবাদিক হয়ে উঠলেও সেই দিনের অসীম সাহসী প্রতিরোধের স্বীকৃতি দাবি করেননি কোনোদিন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নিজের নাম লেখানোর কোনো চেষ্টাও করেননি। তার সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের অনেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বা খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেও তিনি থেকেছেন স্বীকৃতির বাইরে। যার জন্য এখনো আক্ষেপ করেন বেঁচে থাকা তার অনেক সহকর্মী। তাদের দাবি জেলায় প্রথম প্রতিরোধের সূচনাকারী নির্মোহ এই বীরযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি দেয়া এখন সময়ের দাবি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বিরাজ কুমার সেন তরুণ সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছাত্র থাকাকালীন মতিউর রহমান চৌধুরী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় সংগঠক ও কর্মী ছিলেন। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে স্থানীয়দের যারা সম্মানিত হয়েছেন তাদের মধ্যে মতিউর রহমান চৌধুরীর নাম সবার আগে থাকার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি নিজে দাবি করেননি বলে তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। এটি বড় দুর্ভাগ্য। এর জন্য একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি ব্যথিত, লজ্জিত ও অনুতপ্ত। প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে সেদিনের তার অসীম সাহসী প্রতিরোধ চিরশ্রদ্ধায় স্মরণীয়।
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আবুল খয়ের চৌধুরী ১৯৭১ সালের সেই সময়ের স্মৃতিচারণে বলেন, সেদিন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছিলাম। ২৬শে মার্চ মৌলভীবাজার শহরে পাক হানাদার বাহিনীর গুলির মুখে পড়ি। কোনোরকম দৌড় দিয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করি। পরে যুদ্ধে যোগ দেই।
তিনি বলেন, তখন ছাত্রনেতা দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী (মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্রলীগ সভাপতি) ও মতিউর রহমান চৌধুরী (মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের নির্বাচিত ভিপি) সহ অনেক অগ্রজ ছিলেন পাক বাহিনীর টার্গেটে। তারপরও তারা বিন্দুমাত্র পিছপা হননি। তারা প্রতিরোধ গড়েছেন। তাদের অবদান অনস্বীকার্য। দুঃখজনক হলেও সত্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই সম্মান ও স্বীকৃতি তাদের অনেকেই পাননি। তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি আমাদের হৃদয়ে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট বিভাগীয় সাবেক কমান্ডার ও সিনিয়র আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান মুজিব ১৯৭১ সালের স্মৃতিকথায় বলেন, বয়স ও লেখাপড়ায় কিঞ্চিৎ কনিষ্ঠ মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে আমার পরিচয় ও সম্পর্ক ছাত্র রাজনীতি ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে। নিকট প্রতিবেশী ঐতিহ্যবাহী হবিগঞ্জ জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সু-সন্তান মতি ষাটের দশকে মৌলভীবাজার কলেজের ছাত্র এবং কলেজ হোস্টেলেরও আবাসিক ছাত্র ছিলেন। ১৯৭১ সনের তেইশে মার্চ বিকালে চৌমুহনা চত্বরে প্রতিরোধ সভা হয়। সেই বিশাল ছাত্র-যুব-জনসভায় সভাপতিত্ব করেছিলেন মহকুমা ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী।
সভাটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত নুরুল ইসলাম মুকিত। ছাত্রনেতা মতিউর রহমান চৌধুরীসহ অন্যরা সেই সভার আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে পাকসেনাদের সহজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি ও বাধা প্রদানের জন্য ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। দুঃসাহসী ছাত্রনেতা মতিউর রহমান চৌধুরী শহরের রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরি করে গ্রেপ্তার হন। পর্যটন রেস্ট হাউস ছিল খান সেনাদের ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার। একত্রিশ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের সি. অ. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার রানা ছিলেন দায়িত্বে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পর্যটন রেস্ট হাউসের কয়েদখানায় গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হতো। একজন হৃদয়বান বাঙালি পাকসেনা মতিউর রহমান চৌধুরী ও আজিবুর রহমানের ফর্সা মাসুম চেহারা দেখে দয়ার্দ্র হন। এই পাকসেনা এই দুই বন্দিকে ইশারায় ছেড়ে দিলে তারা দু’জন কৌশলে পর্যটন রেস্ট হাউস থেকে মুক্তি পান। স্বাধীনতা উত্তরকালে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধা লাভের চেষ্টা করেননি তিনি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালীন মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আব্দুল ওয়াহাব চৌধুরী সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, মতিউর রহমান চৌধুরী ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের পরবর্তীতে তিনি সনদ পাননি বা তিনি তা সংগ্রহ করেননি।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মো. আনছার আলী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের নানা ঘটনা প্রবাহের স্মৃতিচারণ করে বলেন- আমি ছিলাম সেনাবাহিনীর সৈনিক। চাকরি থেকে পালিয়ে মার্চের শেষের দিকে আমাদের এই অঞ্চল থেকে হানাদার বাহিনীকে তাড়াতে মাঠে সরব হই। তিনি বলেন- সে সময় মতিউর রহমান চৌধুরীর মতো অনেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং নিয়ে দেশের তরে যুদ্ধ করতে অনুপ্রাণিত করেছেন। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সুসংগঠিত করেছেন। তারাও নানাভাবে জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানিদের প্রতিরোধ করেছেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জনমত গড়তে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। যুদ্ধকালীন সময়ে নেপথ্যে থাকা এসব বীর সেনানীদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি সময়ের দাবি।
মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফএ’র মৌলভীবাজার জেলা কমান্ডার ও সিলেট বিভাগের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মাহমুদুর রহমান বলেন, মতিউর রহমান চৌধুরী ছাত্রজীবনে আমার রুমমেট ছিলেন। মৌলভীবাজারে আসার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে আমার কাছে অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেন। সম্ভবত মার্চের ২৬ তারিখ হাদিগাজি ও মতিউরসহ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায় পাক মিলিটারি। তাদের অনেককে হত্যা করা হয়। সৌভাগ্যক্রমে মতিউরসহ ছাড়া পান কয়েকজন।
তিনি বলেন, মতিউর রহমান চৌধুরীসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবনবাজি রাখা সেনানীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়াটা কষ্টের ও লজ্জার। তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান তরফদার বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পিটিআই থেকে ট্রেনিং নিয়ে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে ও নবীগঞ্জের দিনারপুরসহ নানা স্থানে যুদ্ধ করেছি। জীবনবাজি রেখে তৎকালীন সময়ে মিছিল মিটিংয়েও ছিলাম অগ্রভাগে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমিও মতিউর রহমান চৌধুরীর মতো মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি। কাগজে কলমের স্বীকৃতি না পেলেও আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিতে পেরেছি- এটাই আমাদের প্রশান্তি।
মহকুমা ছাত্র ইউনিয়ন নেতা ও মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি সৈয়দ সাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন-মতিউর রহমান চৌধুরী মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাবস্থায় তার সঙ্গে আমার চেনাজানা ও ঘনিষ্ঠতা।
তিনি অল্প বলতেন আর কাজ করতেন বেশি। এটা তার অনন্য গুণ। ’৬৯-এর গণ-আন্দোলন, ’৭১- এর মুক্তি সংগ্রামসহ সব আন্দোলনে তিনি ছিলেন রাজপথের সক্রিয় সাহসী যোদ্ধা। ১৯৭১ সালে একজন সক্রিয় ছাত্রনেতা হিসেবে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন সরব। পাকিস্তান আর্মি তাকে ও তার সহকর্মীদের আন্দোলনরত অবস্থায় রাজপথ থেকে ধরে নিয়ে প্রাণে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আল্লাহ’র অশেষ রহমতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
একটি স্বাধীন মানচিত্রের জন্য তাদের এই ত্যাগ, লড়াই ও সংগ্রাম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শ্রদ্ধার আসনে আসীন থাকবে। তৎকালীন মহকুমা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন বলেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিভীষিকাময় দিনগুলো বলে বুঝাবার নয়। দেশকে হানাদার মুক্ত করতে তখন মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছি। ২৬শে মার্চ মতিউর রহমান চৌধুরীসহ তারা কয়েকজন মিলে শহরে ব্যারিকেড দেন। যাতে পাক হানাদাররা সহজেই শহরে ঢুকতে না পারে। তারপরও হানাদার সৈন্যরা তাদের কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়। মতি ভাই আল্লাহর রহমতে প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারলেও তখন ওদের গুলিতে কয়েকজন শাহাদতবরণ করেন। মতি ভাইসহ অন্য অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় কোনো সম্মাননা বা স্বীকৃতি পাননি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমিও তাদের মতো বঞ্চিত।
ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও সাবেক এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এক স্মৃতিচারণে বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকেই ট্রেনিং নিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। জীবন দিয়েছেন। রক্ত দিয়েছেন। আর কেউ কেউ আমজনতাকে সুসংগঠিত করে ট্রেনিংয়ে পাঠিয়েছেন। তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। সংগঠকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সে সময় কারোরই জীবন নিরাপদ ছিল না। স্বাধীনতার এত বছর পরও তাদের অনেকেই আজও পাননি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা সম্মান। তাদের একজন মতিউর রহমান চৌধুরী। স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান অনস্বীকার্য।
মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রনেতা বকশী ইকবাল আহমদ বলেন, ১৯৭১ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নে মৌলভীবাজারের অগ্রগামী ছাত্রনেতাদের মধ্যে মতিউর রহমান চৌধুরীসহ তার সঙ্গীরা মৌলভীবাজার শহরে সর্বপ্রথম প্রতিরোধ আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। মতিউর রহমান চৌধুরীসহ তার সঙ্গীয় সাতজন ছাত্রনেতার পথ অনুসরণ করেই ছাত্র-জনতা ও গণমানুষ মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। মতি ভাইয়ের সঙ্গের অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের খেতাবপ্রাপ্ত বা অর্জন করলেও দুর্ভাগ্যজনক হলেও মতিউর রহমান চৌধুরী ও তার সঙ্গী অনেকেই তাদের অসামান্য অবদানের জন্য কোনো খেতাব পাননি। যা খুবই দুঃখজনক।
মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম উমেদ আলী বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে মতিউর রহমান চৌধুরীর সক্রিয় ভূমিকা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণীয়। তিনি জীবন বাজি রেখে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে সহকর্মীদের নিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। ওই সময় পাকহানাদার বাহিনীর হাতে তিনিসহ অন্যরা গ্রেপ্তারও হন। পাক বাহিনীর গুলিতে কয়েকজন শাহাদতবরণ করলেও মতি ভাই প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তিনি দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেন। স্বাধীনতার এত বছর পর তার এই অবদানের স্বীকৃতির জন্য দাবি জানাতে হচ্ছে এটা আমাদের জন্য লজ্জার বিষয়।