জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাসের ঘটনাকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বুধবার (২০ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ ছিল তাদের ভাষায় জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। পূর্ববর্তী অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার যে পথ তৈরি হয়েছিল, সংসদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা দাবি করে।
তারা বলেন, বিচার বিভাগকে আবারও নির্বাহী বা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে নেওয়া হলে তা আদালতের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করবে এবং বিচার ব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাবের ঝুঁকিতে ফেলবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভাগের হাতে ন্যস্ত করা হলে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা সতর্ক করে বলেন, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না রাখলে রাষ্ট্রীয় জুলুমের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যায়।
সংগঠনটি দাবি করে, জনগণের ম্যান্ডেট ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি হবে।
শেষে তারা সরকারের প্রতি সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহালের দাবি জানায়। একই সঙ্গে দাবি মানা না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেয় সংগঠনটি।