আবারও গ্যাস সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ হঠাৎ করে ২৫ কোটির বেশি ঘনফুট কমে গেছে। আমদানি করা একটি এলএনজি কার্গো বৈরী আবহাওয়ায় সামিটের ভাসমান টার্মিনালে বার্থিং করতে না পারায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে পেট্রোবাংলা। কয়েকদিন ধরে দিনে ২৩৫ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। রোববার সন্ধ্যা থেকে সেই সরবরাহ ২১০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। আগামীকাল রাতের আগে এই সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গ্যাস, কয়লা এবং তেল সংকটের কারণে সারা দেশে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে। সোমবার রাত ১টায় সারা দেশে লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। তবে আদানি গ্রুপের সরবরাহ বাড়ানোর পর গতকাল বিকালে বিদ্যুতের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। এরপরও লোডশেডিং চলছে ঢাকার বাইরে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেছেন, লোডশেডিং কমাতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া আদানিকে তাদের উৎপাদন বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকাল থেকে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক ৬৮ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট থেকে বাড়িয়ে ৭৪ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট করা হয়েছে। এদিকে শাহজালাল সার কারখানার উৎপাদন একেবারে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শাহজালাল এতদিন পেত ৪ কোটি ঘনফুট। সেখানে সোমবার থেকে দেওয়া হচ্ছে ১ কোটি ঘনফুট। এর ফলে শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে সব ধরনের গ্রাহক কম গ্যাস পাচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সামিটের এলএনজি টার্মিনালের জন্য সিঙ্গাপুর আরামকো ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানি করা কার্গো রোববার বহির্নোঙরে আসে। এটি সোমবার সামিটের টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার কথা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় তারা এই জাহাজ বুধবার বিকালের আগে সামিটের টার্মিনালের সঙ্গে বার্থিং বা সংযুক্ত করতে পারবে না। এ কথা আরামকো সাফ জানিয়ে দিয়েছে পেট্রোবাংলাকে। এখন উপায় না দেখে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সামিটের টার্মিনালে এখন কোনো কার্গো নেই। তাদের মজুতের ট্যাংকি থাকা এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন করে মাত্র ২ কোটি ঘনফুট গ্রিডে দিচ্ছে। আগে তারা ৫ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করত।

এদিকে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজির একটি ইউনিট (বয়েলার) চালু হয়েছে গত ৬ আগস্ট। বাকি ইউনিট সোমবার চালু হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। গানভোর কোম্পানির কার্গো এই টার্মিনালে এখন সংযুক্ত আছে এবং এলএনজি সরবরাহ করছে। তবে দ্বিতীয় বয়লার বা ইউনিটটি চালু করতে যে কোনো সময় এটি কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করা হতে পারে। এরপর দুই বয়লারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাসমান এই টার্মিনাল আবার চালু করা হবে। বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। জানা গেছে, দুই টার্মিনাল ছাড়াও জ্বালানি বিভাগের বড় দুশ্চিন্তা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কার্গো ক্রয়। আগামী ১৭ আগস্টের কার্গো এখনো কিনতে পারেনি পেট্রোবাংলা। এ নিয়ে একটি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা হচ্ছে।

এদিকে পিডিবি জানিয়েছে, সারা দেশে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমেছে। এরপরও লোডশেডিং ছিল অসহনীয়। লোডশেডিং নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, যে কোনোভাবে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন ধরে গেলে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে দেশের গ্যাস সরবরাহে ধস নামে। ২১ জুলাইয়ের আগে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা গেলেও টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেই সরবরাহ ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এখন সেই সরবরাহ আবারও ২১০ কোটি ঘনফুটে নেমে এলো।

গতকাল বিকাল ৪টায় সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে আদানি এবং নেপাল থেকে আনা হয়েছে ২ হাজার ১০৪ মেগাওয়াট। গ্যাস থেকে উৎপাদন ৩ হাজার ৯০৬ মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ৪৪৪ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে। বাকি বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্যসহ অন্যান্য খাত থেকে জাতীয় গ্রিডে গেছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews