মিনায় মুসল্লিদের জড়ো হওয়ার মধ্য দিয়ে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ। হজের অংশ হিসেবে মুসল্লিরা মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও মক্কায় ৮ থেকে ১২ জিলহজ মোট পাঁচদিন অবস্থান করবেন।
হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজযাত্রীরা। গতকাল থেকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজীরাও মসজিদুল হারামে পৌঁছাতে শুরু করেন। এরপর তারা তাওয়াফে কুদুম করেছেন। হজের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হিসেবে হজযাত্রীরা আজ ইহরাম বেঁধে মিনায় যাবেন। তাঁবুর শহরে সমবেত হবেন ১৭ লাখেরও বেশি হাজী। এদিন থেকে শুরু হবে ‘ইয়াওমুত তারওইয়াহ’ বা হজের আনুষ্ঠানিকতা।
সৌদি সময়ানুযায়ী আজ ৮ জিলহজ (২৫ মে) সোমবার সকাল থেকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে। বায়তুল্লাহ থেকে মিনার দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। এজন্য হজযাত্রীরা গতকাল রোববার রাত থেকেই তাঁবুর শহর মিনায় যাওয়া শুরু করেন। এশার নামাজের পর মক্কার নিজ নিজ আবাসন থেকে ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন হাজীরা। আগামীকাল ৯ জিলহজ (২৬ মে ) পালিত হবে ইয়াওমে আরাফা বা আরাফা দিবস।
মিনা মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে পূর্বে অবস্থিত একটি ছোট উপত্যকা, এটি হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপত্যকা হজের সময় হাজীদের থাকার জন্য তৈরি করা শ্বেতবর্ণের হাজারো তাঁবুতে পরিপূর্ণ হয়ে থাকে। এই তাঁবুগুলো অগ্নিপ্রতিরোধী এবং হাজীদের নিরাপত্তা ও আরাম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব সুবিধাসম্পন্ন। সেখানে পুরো সময় ইবাদতে কাটাবেন হাজীরা। হজ পালনকারীদের জন্য ৮ জিলহজ জোহরের নামাজের আগে মিনায় পৌঁছা সুন্নত। মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও রাতযাপন সুন্নত। মিনায় অবস্থানে পুরোটা সময় হাজীরা তালবিয়া, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন। এখানে অবস্থানের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। অল্প সময়ও জিকির-আজকার থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। তাই জিকির ও ইবাদতে মগ্ন থাকা মিনার অত্যন্ত জরুরি আমল। অনর্থক গল্প-গুজব থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
মিনায় অবস্থান শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) সুবহে সাদিকের সময় আরাফার ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন হাজীরা। এখানে তারা হজের মূল ফরজ ‘ওকুফে আরাফাত’ বা আরাফায় অবস্থান পালন করবেন।
বিশ্ব মুসলিমের সবচেয়ে বড় এই জনসমাগম চলাকালে তীব্র গরম থাকতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মিনা ও মুজদালিফা উভয়স্থানেই তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে এবং বাতাসের গতি সীমিত থাকলে দুপুরের দিকে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুতির স্তর বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি এই মন্ত্রণালয়। একই সাথে হাজীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের সরাসরি সূর্যের আলো এবং তীব্র গরমের সময় হাঁটাচলা থেকে বিরত থাকা এবং যথাসম্ভব তাঁবুর ভেতরে অবস্থানের পরামর্শ দেয়ার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
হাজীদের রোদে ছাতা ব্যবহার, প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জারিকৃত সব স্বাস্থ্য বার্তা ও পরিচালন নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে হজযাত্রীদের উদ্বুদ্ধকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। সৌদি সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোকে বাংলাদেশী হজযাত্রীদের তীব্র গরমে সতর্কতা অবলম্বন ও স্বাস্থবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ইসলামের মূল পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে হজ পঞ্চম স্তম্ভ। হিজরি বর্ষপঞ্জির জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজ পালনের জন্য নির্ধারিত সময়। ইসলাম ধর্মমতে, শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।
এবার বাংলাদেশ থেকে হজ করতে সৌদি আরবে গিয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৯০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী চার হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৭৩ হাজার ৯২৬ জন। এছাড়া হজ এজেন্সি, হাব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন টিমের ব্যবস্থাপনা সদস্য সংখ্যা রয়েছে আরো ৭৭৪ জন।