যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার স্বেচ্ছায় তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তাঁর পরিবর্তে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম ডাউনিং স্ট্রিটের চাবিকাঠি হাতে নিতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ মে অ্যান্ডি বার্নহাম উত্তর ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসন থেকে হাউস অব কমন্সের (ব্রিটিশ সংসদের নিম্নকক্ষ) উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এর পরদিনই অর্থাৎ ১৫ মে, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি (এনইসি) তাঁর প্রার্থিতা অনুমোদন করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহাম যদি এই উপ-নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে আসেন, তবে তাঁর জন্য ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ অনেকটাই সুগম হবে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টারের গোর্টন অ্যান্ড ডেন্টন আসনের উপ-নির্বাচনে লড়ার চেষ্টা করেছিলেন বার্নহাম। কিন্তু সে সময় লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর মনোনয়ন আটকে দেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানায়, লেবার নেতৃত্বের মনে ভয় ছিল যে বার্নহাম সংসদে এলে তিনি কিয়ার স্টারমারকে হটিয়ে দলের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ দখল করতে পারেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। ডেইলি টেলিগ্রাফের সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এখন সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন। প্রকাশ্যে তিনি যেকোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার কথা বললেও, দলের ভেতরে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। লেবার পার্টির বিভিন্ন প্রভাবশালী উপদল বা গোষ্ঠী যদি অ্যান্ডি বার্নহামের পেছনে এককাট্টা হয়, তবে স্টারমার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার বিকল্পটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
অবশ্য মেকারফিল্ড আসনের উপ-নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার আগে স্টারমার এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা পদত্যাগ করছেন না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উপ-নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই এখন নির্ভর করছে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ।