আমদানিনির্ভরতা কমাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিক্যাল ডিভাইস শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে। ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ওষুধ শিল্পের মতো একটি নীতি প্রণয়ন করে দিলে ওষুধের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম তৈরির শিল্পও বাংলাদেশে গড়ে উঠবে এবং দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করাও সম্ভব হবে। বাংলাদেশে বুয়েটসহ বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ^বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। প্রতি বছর এসব বিশ^বিদ্যালয় থেকে যে গ্র্যাজুয়েটরা বের হয়ে আসছেন তারা নির্দিষ্ট বিষয়ে চাকরি না পেয়ে সাধারণ বিষয়ে চাকরি খুঁজে নিচ্ছেন। এই দক্ষ জনশক্তি ওষুধ শিল্প সরঞ্জাম তৈরির শিল্প কাজে লাগাতে পারবে। তা ছাড়া বিপুলসংখ্যক অদক্ষ জনবল তো রয়েছেই যারা কাজের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাদেরও কাজে লাগানো যাবে।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ ১৫০টি দেশে রফতানি হচ্ছে এবং বছরে ২০ থেকে ২১ কোটি মার্কিন ডলার রফতানি করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত দেশেও রফতানি করছে। বাংলাদেশের মোট রফতানির ০.৪৪ শতাংশ ওষুধ রফতানি থেকে আসে।

দেশীয় ওষুধ শিল্পের চাহিদা মিটিয়ে তেমনি ওষুধ শিল্পের সরঞ্জাম রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক। তিনি বলেন, তবে এ শিল্পকে প্রণোদনা দিলে দাঁড়িয়ে যাবে, কারণ দেশেই চাহিদা আছে যেমন ওষুধ শিল্পের জন্য প্রণোদনা দেয়া হয়েছিল। তা ছাড়া ওষুধ শিল্পকে যেভাবে প্রটেকশান দেয়া হয়েছে সেরকমভাবে প্রটেকশানের দরকার পড়বে ওষুধ শিল্প সরঞ্জাম তৈরির শিল্পের জন্য। সরকার ইচ্ছা করলে আগামী অর্থ বছর থেকেই এ ধরনের একটি নীতিমালা তৈরি করে কাজ শুরু করে দিতে পারে।

বাংলাদেশ কি পরিমাণ ওষুধ শিল্পের সরঞ্জাম আমদানি করে এর কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ট্যাবলেট প্রেস, ক্যাপসুল ফিলিং মেশিন, ব্লিস্টার প্যাকেজিং মেশিন, স্টেরাইল ইনজেকশন উৎপাদন লাইন, ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি, কোয়ালিটি কন্ট্রোল সরঞ্জাম এবং এপিআই উৎপাদন সরঞ্জামের বেশির ভাগই ইউরোপ, চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান থেকে আমদানি করা হয়। এপিআই পার্কে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও মূলধনী যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে। তবে সরকার আশা করছে, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিক্যাল ডিভাইস খাতটি ভবিষ্যতে রফতানিমুখী প্রবৃদ্ধির শিল্পে পরিণত হবে।

আমদানিনির্ভর হলেও বাংলাদেশ সীমিত পরিসরে ওষুধ শিল্পের জন্য কিছু মেশিন তৈরি করছে যেগুলো দেশীয় শিল্পের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকটি কোম্পানি মেডিক্যাল সরঞ্জাম তৈরি করে দেশীয় বাজারে দিচ্ছে এবং কিছু কিছু বিদেশে রফতানি করছে। গত এক দশকে বাংলাদেশে একটি উল্লেখযোগ্য মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদন খাত গড়ে উঠেছে। বর্তমানে দেশে সাধারণ সিরিঞ্জ, ইনসুলিন সিরিঞ্জ, অটো-ডিসেবল (এডি) সিরিঞ্জ, আইভি ক্যানোলা, ইনফিউশন সেট, ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেট, ইউরিন ড্রেনেজ ব্যাগ, সার্জিক্যাল স্যুচার (অস্ত্রোপচারের পর সেলাইয়ের সুতা), গ্লাভস, ভ্যাকুয়াম ব্লাড কালেকশন টিউবসহ নানা ধরনের চিকিৎসাসরঞ্জাম উৎপাদিত হচ্ছে। এই যন্ত্রপাতিগুলো জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইস লিমিটেড, জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, এএনসি মেডিক্যাল ডিভাইস, তাইওয়ান বাংলা মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, গেটওয়েল লিমিটেড নামের কোম্পানি তৈরি করে ও রফতানি করে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews