মাসিক সম্পর্কে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো, ঋতুস্রাবের সময় মেয়েরা ‘অপবিত্র’ থাকে। এ ধারণার কারণে অনেক পরিবারে এ সময় নারীদের রান্নাঘরে যেতে দেওয়া হয় না, ধর্মীয় কাজে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়, এমনকি আলাদা ঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়।
বাস্তবে মাসিক কোনো রোগ নয়, এটি নারীর প্রজননক্ষমতার স্বাভাবিক প্রকাশ। কোনো মেয়ে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর পর প্রতি মাসে শরীরে হরমোনের প্রভাবে জরায়ুর ভেতরের স্তর তৈরি হয় এবং গর্ভধারণ না হলে সেটি রক্তের সঙ্গে বের হয়ে আসে। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
আরেকটি প্রচলিত মিথ হলো, মাসিক চলাকালে গোসল করা উচিত নয়। অনেকে মনে করেন যে গোসল করলে রক্তক্ষরণ বেড়ে যায়, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। অথচ এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা অত্যন্ত জরুরি। হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীর সতেজ থাকে, ব্যথা কমে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে। একইভাবে টক খাবার, দুধ, মাছ বা ডিম খাওয়া যাবে না, এ ধরনের ধারণারও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং মাসিকের সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক কিশোরী প্রথমবার মাসিক শুরু হওয়ার সময় ভয় পেয়ে যায়, কারণ আগে থেকে কেউ তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন না। স্কুল কিংবা পরিবারে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না থাকায় তারা বিভ্রান্ত হয়। অনেকেই মনে করে, এটি কোনো অসুখ বা শরীরের কোনো ক্ষতি। অথচ সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিলে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এ পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে পারে।
স্যানিটারি প্যাড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকে রাসায়নিক সুগন্ধযুক্ত প্যাড পছন্দ করেন। এতে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিরাপদ হলো কোনো ধরনের সুগন্ধি ছাড়া প্যাড ব্যবহার করা। এতে যৌনাঙ্গের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক থাকে, জ্বালাপোড়া, চুলকানির ঝুঁকি কমে আসে।