আসিফ বিন আলী: নব্বইয়ে দেশের রাজনৈতিক দল বা জোটগুলো এবং নাগরিকদের মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে যে সামাজিক চুক্তি হয়েছিল, সেই চুক্তি যখন ভেঙে ফেলা হয়, তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটি এই অভ্যুত্থান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। জনগণের সঙ্গে গণতন্ত্রের সামাজিক চুক্তি যে রাজনৈতিক দলই ভাঙুক না কেন, সময় এলে জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে এবং সেই রাজনৈতিক ক্ষমতাকে তার ক্ষমতা থেকে দূরে ছুড়ে ফেলে দেবে। জুলাইকে আমি এভাবেই দেখতে চাই।
বিগত দশকগুলোর অন্যান্য গণ–আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থানের তুলনায় চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে বড় ধরনের নিষ্ঠুরতা বা ভায়োলেন্স ঘটেছে। আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার ও রাষ্ট্র চরম ভায়োলেন্স ঘটিয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পাল্টা ঘটনাও ঘটেছে। এখন দেখতে হবে, যখন জুলাইয়ের পরে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলো এবং একটা নতুন নির্বাচিত সরকার এল, তারা কি এই ভায়োলেন্সকে আইনের দৃষ্টিতে দেখেছে, নাকি উপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশের সমাজে বরাবরই রাজনৈতিক ভায়োলেন্সের বিচার উপেক্ষিতই থেকে যায়, সেই অর্থে বিচার হয় না। ফলে ভুক্তভোগীদের মানসিক উপশমের কোনো জায়গা থাকে না। রাষ্ট্রকে ভুক্তভোগীদের পরিচয় নির্বিশেষে তাদের ক্ষয়ক্ষতিকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের মানসিক উপশমের ব্যবস্থা করতে হবে। আর এটি করার একমাত্র পথ হলো ন্যায়বিচার। সরকারকেই সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আর এটা না হলে সমাজে স্থায়ী শান্তি বা স্থিতিশীলতা আসবে না।