বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। খানাভেদে এ হার প্রায় ৯৯ শতাংশ। আর স্মার্টফোন ব্যবহার করে ৭৩ শতাংশ। তবে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেও ইন্টারনেট সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত প্রায় ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। বিশেষ করে পিছিয়ে রয়েছেন নারীরা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) গতকাল প্রকাশিত ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক’ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে একক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার মোট জনসংখ্যার ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ। সংখ্যায় যা প্রায় ৭ কোটি ৬ লাখ মানুষ। এর মধ্যে সিংহভাগ ব্যবহারকারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
এদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও গ্লোবাল ডিজিটাল ইনসাইটের গত বছরের তথ্যমতে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০ দেশেরও পরে। এমনকি পিছিয়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশের তুলনায়ও।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তথ্যমতে (বিটিআরসি) দেশে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৮২৭ লাখ। যেখানে ১১ কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। দেশে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক চারটি অপারেট ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকে। তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে গ্রামীণফোনের গ্রাহক। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্রডব্যান্ড সেবা দিয়ে থাকে।
বিবিএসের তথ্যে আরো উঠে এসেছে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী প্রায় ১৫ কোটি ১৯ লাখ। নিজস্ব মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। তবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তুলনামূলক কম। দেশের ৯ কোটি ৯১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ইন্টারনেটের সুবিধা পায়। এছাড়া মাত্র ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, দেশের খানাভেদে ৫৭ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পায়। ৯৯ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এলেও তাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের হার কম। ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
আইটিইউ ও গ্লোবাল ডিজিটাল ইনসাইটের গত বছরের তথ্যমতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মালদ্বীপে ৮৫ শতাংশ, ভুটানে ৮৫, শ্রীলংকায় ৭০, ভারতে ৬৫, বাংলাদেশে ৫৮, পাকিস্তানে ৫৫, নেপালে ৫০ এবং আফগানিস্তানে ২৫-৩০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা পায়। এসব দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের পার্থক্যের কারণ হিসেবে এর দাম ও গতির কথা উল্লেখ করে ব্যবহারকারীরা।
আরব আমিরাত, আইসল্যান্ড, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মানুষ সর্বাধিক মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে, ডেনমার্কের ৯০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পায়। তবে সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে চীনে।
এদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়লেও এখনো তা আশানুরূপ নয়। এর অন্যতম কারণ হিসেবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো গ্রামীণ পর্যায়ে ইন্টারনেটপ্রাপ্তি সহজ না হওয়া এবং চড়া দাম।
সরকার নীতিসহায়তা দিলে ইন্টারনেটের দাম বাড়বে না বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের (বিআইজিএফ) চেয়ারপারসন মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে ৬৫ শতাংশ মানুষ মোবাইল ও ৩৫ শতাংশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ইন্টারনেট এখন মৌলিক চাহিদা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ইন্টারনেটের দাম বাড়ার তথ্য সঠিক নয়। যদি এ খাতে ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ে সেক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের (ব্যবহারকারী) ওপর চাপ পড়বে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বড় করতে চান। তবে তার জন্য সরকারের নীতিসহায়তা দেয়া দরকার।’
বিডি-প্রতিদিন/আশফাক