বাগদাদ, ১৫ মার্চ – ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের এরবিল শহরে অবস্থিত লানাজ তেল শোধনাগারে শনিবার ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার ফলে শোধনাগারটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর শোধনাগারের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পুরোপুরি নিরূপণ না হওয়া পর্যন্ত এই শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর এ ধরনের আকস্মিক হামলা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লানাজ তেল শোধনাগার কুর্দি অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কারণ এই অঞ্চলে তেল উৎপাদন ও বিতরণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যমগুলো নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ইরানের কেন্দ্রীয় ইউনিফাইড কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের অনুকরণে তৈরি নকল ড্রোন ব্যবহার করে তুরস্ক, কুয়েত এবং ইরাকের মতো বিভিন্ন দেশে হামলা চালানো হচ্ছে। ইরানি কমান্ড অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেই তাদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকে। ইরান সুস্পষ্টভাবে এই শোধনাগারে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও একই ধরনের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষক আসাদ বেগের মতে, দায় স্বীকারের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকলেও হামলায় শোধনাগারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি স্থানীয় সরকারের জন্য একটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। কারণ তেল উৎপাদন ও রফতানির ওপরই এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি নির্ভরশীল।
এস এম/ ১৫ মার্চ ২০২৬