ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) আয়োজিত ‘জুলাই সনদ ও সংস্কার: শহীদ পরিবারের আকাঙ্খা’ শীর্ষক সংস্কার আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টায় ডাকসু প্রাঙ্গণে এ সংস্কার আলাপের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে জুলাই-আগস্টে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

জুলাই শহীদ ইব্রাহীমের মা বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার আমার ছেলে শহীদ হয়। আমার কোন দুঃখ নাই। শুধু একটাই চাওয়া ইব্রাহীমকে যেন আল্লাহ যেন শহীদ হিসেবে কবুল করেন। আর সরকারের কাছে একটাই দাবি, বাংলাদেশের মানুষ যাতে আর কোনদিন আমাদের মত দুঃখিনী তার সন্তান না হারায়। পুরনো ব্যবস্থা যেন আর ফিরে না আসে।

জুলাইয়ে শহীদ জিসানের মা বলেন, আমার একমাত্র ছেলে ২০শে জুলাই আন্দোলনে গিয়ে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে শহীদ হয়েছে, আর তার স্ত্রীও স্বামীর শোক সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুবরণ করেছে, আমি মা হয়ে দুই সন্তানের শোকে ভেঙে পড়েছি, তবুও আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমার ছেলে শাহাদাত পেয়েছে। আমার কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া নেই, সরকারের কাছে আমার আহ্বান; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করুন, নইলে জনগণ আবার রাজপথে নামবে; আমার এক ছেলে শহীদ হয়েছে, প্রয়োজন হলে আমিও সেই পথে প্রস্তুত আছি।

শহীদ দ্বীন ইসলামের পিতা বলেন, আমার ছেলে ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছে। আমিও সেখানে ছিলাম, আমি নিজ চোখে তার সাহসিকতা দেখেছি। আমরা যে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছি, সেই লক্ষ্যেই গণভোটে অংশ নিয়ে জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি এবং তার বাস্তবায়নই এখন আমাদের প্রধান দাবি। সরকারের কাছে আহ্বান—গড়িমসি না করে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন; প্রয়োজন হলে আমরা আবারও রক্ত দিতে প্রস্তুত, আরেকটি জুলাইয়ের জন্যও প্রস্তুত আছি।

সভাপতির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু কর্তৃক আয়োজিত “জুলাই সনদ ও সংস্কার: শহীদ পরিবারের আকাঙ্ক্ষা” অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে সালাম জানাই। আজ আমরা সেই শহীদদের স্মরণ করছি, যারা আত্মত্যাগ করে আমাদের নতুন বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা উপহার দিয়েছে। ২ হাজারের বেশি শহীদ হয়েছেন এবং ৪০ হাজারের অধিক আহত হয়েছে। তাদের স্বপ্ন ছিল একটি নতুন, ন্যায়, ইনসাফ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু আমরা দেখছি, বিপ্লব পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ও জাতির সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করছে। গণভোট, মানবাধিকার কমিশন, সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো বাতিলের প্রস্তাব এসেছে। ১৬ বছর ধরে তৈরি ফেসিবাদী কাঠামো পুনরায় ফিরে আসার হুমকি দেখা দিচ্ছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews