পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে খোলা জায়গা বা উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত আয়োজনের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও কয়েকটি বিজেপি-শাসিত অঞ্চলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ, সড়ক ও খোলা স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন ট্রাফিক জ্যাম, জনদুর্ভোগ ও আইনশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিলেও মুসলিম নেতারা এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলার মালিয়ানা গ্রামের একটি ছোট মসজিদে ঈদের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে বসেন স্থানীয় মুসল্লিরা। সেখানে কোরবানি বা উৎসবের প্রস্তুতির চেয়ে বেশি আলোচনা হয়—কোথায় এবং কীভাবে ঈদের জামাত আদায় করা হবে তা নিয়ে। কারণ, প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে আগের মতো খোলা মাঠে জামাত আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের ওই এলাকায় স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় খোলা জায়গায় জামাত আদায় বহু বছরের প্রচলিত রীতি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ বাড়ায় মুসলমানদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভীতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো সড়ক, পার্ক বা সরকারি স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করা যাবে না। কোথাও এ নির্দেশনা অমান্য করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় পুলিশ টহল ও নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, একই ধরনের জনসমাগম অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেখা গেলেও সেসব ক্ষেত্রে এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হয় না। তারা বলছেন, ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে বারবার বিধিনিষেধ আরোপ দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের রাজনৈতিক পরিবেশে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়ার প্রভাব মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও পড়ছে। বিশেষ করে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পোশাক নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করে আসছেন।
এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে দেশটির বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মুসল্লিদের মসজিদ বা নির্ধারিত স্থানে সীমিত পরিসরে জামাত আদায়ের পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। তবে মুসলিম নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবে খোলা মাঠ বা ঈদগাহে বিপুলসংখ্যক মানুষের একসঙ্গে নামাজ আদায় বহু অঞ্চলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।