সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীতে যানবাহনের চাপ কম থাকা এবং অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বায়ুদূষণের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ রোদেলা থাকলেও বাতাসে ধুলোর আস্তরণ স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয়।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্বের ১২০টি নগরীর মধ্যে দূষণে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। এ সময় ঢাকার বায়ুমান বা একিউআই স্কোর ছিল ৩৩০, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। উল্লেখ্য যে, গতকাল বৃহস্পতিবারও বায়ুমান ২৯৮ নিয়ে ঢাকা দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছিল।
আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, বায়ুর মান ৩০০ অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা বিপজ্জনক ধরা হয়, যা বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ স্তর। আজ রাজধানীর অন্তত আটটি এলাকায় বায়ুর মান এই বিপজ্জনক সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বায়ুদূষণে আজ বিশ্বের শীর্ষ স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার বায়ুমান ৪১৮।
দীর্ঘ ১১৪ দিন পর গত সোমবার ঢাকায় সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তা বায়ুর মান উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। সাধারণত বৃষ্টি হলে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা কমে যায়, কিন্তু মাত্র ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর ঢাকার বায়ুমান উন্নত হওয়ার পরিবর্তে উল্টো অবনতির দিকেই রয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যে আজ দূষণে শীর্ষে রয়েছে পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, যেখানে বায়ুমান ছিল রেকর্ড ৫৪৯। এরপর পর্যায়ক্রমে গুলশান লেক পার্ক (৫১৯), ইস্টার্ন হাউজিং (৪৫১), দক্ষিণ পল্লবী (৪৪১), উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগ (৩৮৬), বারিধারা পার্ক রোড (৩৪৯), গুলশানের বে’জ এইজ ওয়াটার (৩৪০) এবং গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় বায়ুমান ৩২০ রেকর্ড করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে পুরো নগরীর বায়ুই আজ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এর ফলে জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে।
ভয়াবহ এই দূষণ থেকে বাঁচতে আইকিউএয়ার নগরবাসীকে জরুরি পরামর্শ প্রদান করেছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে দূষিত বায়ু প্রবেশ ঠেকাতে জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ঢাকা প্রায় প্রতিদিনই বায়ুদূষণে বিশ্বে শীর্ষ স্থানে ছিল এবং মার্চের শুরুতেও সেই পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে জনবহুল ও নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে ধুলোর প্রকোপ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।