নিরাপত্তা উদ্বেগের জেরে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ড্রোন বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন এই নীতিমালার আওতায় বেইজিংয়ে ড্রোন ও এর আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ বিক্রি, ভাড়া দেওয়া এমনকি বাইরে থেকে শহরে ড্রোন নিয়ে আসাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে বেইজিংয়ে ড্রোন আছে এমন সব মালিককে পুলিশের কাছে তাদের যন্ত্রটি বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। কোনো ড্রোন যদি মেরামতের জন্য শহরের বাইরে পাঠানো হয়, তবে সেটি কুরিয়ারে আনার সুযোগ থাকবে না বরং মালিককে সশরীরে গিয়ে তা সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া শহরের ভেতরে যেকোনো ড্রোন ওড়ানোর আগে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নীতিমালার ওপর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
চিন বর্তমানে বিশ্বের ড্রোন বাজারের অন্যতম শীর্ষ দেশ এবং ডিজেআই-এর মতো বিশ্ববিখ্যাত ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখানেই অবস্থিত। চীনের নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে দুই ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বেশি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও ড্রোন ব্যবহারের ক্ষেত্রটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। গত বছরই পুরো বেইজিংয়ের আকাশসীমাকে ড্রোন-মুক্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন এই বিধিনিষেধের কারণে ইতোমধ্যে রাজধানীর দোকানগুলো থেকে ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট পণ্য সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ডিজেআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধারকাজের মতো জরুরি প্রয়োজনে বিশেষ অনুমতির সাপেক্ষে ড্রোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বেইজিং মিউনিসিপ্যাল পিপলস কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের মতে, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে চীনের বিশাল ড্রোন বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল