১৯৪৫ সালের আগস্ট মাস; জার্মানির নাৎসি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে তত দিনে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু অক্ষশক্তির আরেক দেশ জাপান তখনো অনমনীয়, কিছুতেই তারা পরাজয় স্বীকার করবে না। ফলে মূল রণক্ষেত্র ছেড়ে যুদ্ধ তখন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত ইউরোপ, নতুন শক্তি হিসেবে দ্রুত এগিয়ে আসছে সোভিয়েত ইউনিয়ন—এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের ওপর একক আধিপত্য বিস্তারে নিজেদের সামরিক শক্তি দেখাতে চাইছিল যুক্তরাষ্ট্র। সঙ্গে ছিল জাপানের করা অপমানের চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা।
১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর হাওয়াইয়ে অবস্থিত মার্কিন নৌ ঘাঁটি পার্ল হারবারে আকস্মিক আক্রমণ করে জাপানই যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে টেনে এনেছিল। আক্রান্ত হওয়ার পরদিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
১৯৪৫ সালের ৮ মে জার্মান সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির বিজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসা বাকি ছিল। দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে জুলাই মাসে পটসডাম সম্মেলনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলো জাপানকে বিনা শর্তে আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেয়। কিন্তু অনমনীয় জাপান একবাক্যে তা প্রত্যাখ্যান করে।
অপমানের প্রতিশোধ, জাপানের অহংকার দমন এবং বিশ্বকে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তি দেখাতে নজিরবিহীন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান, যার পরিণতিতে মানব ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হয়েছিল।