চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগরসহ আশপাশের সীমান্তগুলোতে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার ঠেকাতে সর্বাত্মক অভিযানে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত ৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
দর্শনা-জীবননগর থেকে মহেশপুর পর্যন্ত বিস্তৃত সীমান্তজুড়ে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে টাস্কফোর্স, চেকপোস্ট ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে পাচারকারীদের রুট চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোরের অধীন মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) সূত্র জানায়, প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিদিন গড়ে ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। সাতটি ব্যাটালিয়নের অধীনে ১১৬টি বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) থেকে সমন্বিতভাবে সীমান্ত পাহারা দিয়ে চোরাচালান দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন বিজিবি সদস্যরা।
বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গার, দর্শনা রেলবন্দর ও জীবননগর এবং ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় তেল পাচার প্রতিরোধে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। সম্ভাব্য পাচার রুটগুলো চিহ্নিত করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ফিলিং স্টেশন ও তেল ব্যবসায়ীদের দোকানে চালানো হচ্ছে নিয়মিত তল্লাশি অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় জীবননগর ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন এবং তেল ব্যবসায়ীদের দোকানে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে ৮৭ লিটার ডিজেল ও সাত লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় দু’জনকে যথাক্রমে পাঁচ ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর একজনকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র আরো জানায়, যশোর রিজিয়নের আওতাধীন দর্শনা রেলবন্দরসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া গত ৫ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল শুক্রবার পর্যন্ত দুই হাজার ৬৩৩টি টহল, ৯৫০টি চেকপোস্ট এবং ৬৭টি যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তেল পাচার প্রতিরোধে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সময়ে ৪১টি টাস্কফোর্স অভিযানে তিনজনকে কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং তেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোট ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
শুধু অভিযান নয়, সীমান্তে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। এ পর্যন্ত ৯৪৩টি মতবিনিময় সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে পাচারবিরোধী কার্যক্রমে সাধারণ মানুষও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এই অভিযানে যশোর রিজিয়ন ৯৬ জন আসামিসহ প্রায় ৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ, ডায়মন্ড, অস্ত্র, মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন অবৈধ সামগ্রী, যা সীমান্তে চোরাচালান চক্রের ব্যাপক তৎপরতারই প্রমাণ বহন করে।
বিজিবি জানিয়েছে, আসন্ন ঈদ-উল-আযহা সামনে রেখে সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বিশেষ করে গরু পাচার প্রতিরোধে নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের সমন্বয়ে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।