বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের করকাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তাঁর মতে বর্তমান ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করপোরেট করহার আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। ফলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় করতে ভিয়েতনামের মতো করপোরেট কর ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু করের হার নয়, বরং নীতির অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন না। কারণ নীতি ও কর ব্যবস্থায় ঘন ঘন পরিবর্তন আসে। এ কারণে তিনি অন্তত তিন বছরের জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। দেশের বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি বিমানবন্দরের গুদাম ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে প্রতি বছর কয়েক শ মিলিয়ন ডলারের কাঁচামাল ও পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশের রপ্তানি ও শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ। কর প্রশাসনের আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল ও ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেইস্ড) অডিট ব্যবস্থা চালু করা হলে কর আদায়ের দক্ষতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানিও কমবে। স্বাস্থ্য খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, দেশে মোট চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৪ শতাংশই জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্যসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়াতে এ খাতে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।