তুরস্কে গতমাসে ন্যাটো সম্মেলন শেষে ক্যামেরার সামনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠলেন। তবে ঘটনা হলো, ওই বিমানে চড়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হননি। ইরান থেকে পাওয়া হুমকির মুখে পড়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটি ছাড়ার লক্ষ্যে ট্রাম্পে জন্য

এক আজব পরিকল্পনা ফাঁদা হয় । বিমানবন্দরের ক্যাটারিং কন্টেইনারের ভেতরে লুকিয়ে ট্রাম্পকে অন্য একটি সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হয় । যেন সংবাদমাধ্যমের চোখে সব স্বাভাবিক ঠেকে সে মতলবে ভানুমতির খেলা দেখান ট্রাম্প। মাঝপথে আবারো চুপিসারে আগের বিমানে ফিরে আসেন তিনি। এমনকি সাথে থাকা হোয়াইট হাউসের কর্মী আর সাংবাদিকদেরও এ ঘটনার বিন্দু-বিসর্গও জানানো হয়নি। কথিত বিষয় তাদের কিছুই

আঁচ করতেও দেয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতির মুখে তাদেরকে এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকতে বাধ্য করা মানে প্রকারান্তরে বলির পাঁঠাই বানানো হয়েছিল। তবে তাদের কপাল ভালো, কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আগাম না জানিয়ে বা চুপিসারে, অতি গুপ্ত সফরের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের আগেও তিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেও এমন কাণ্ড ঘটেছিল।

বিল ক্লিনটন (২০০০): কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা কমাতে ২০০০ সালে এশিয়ায় আসেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ভারত ছাড়ার সময় তিনি একটি সামরিক বিমানের দরজায় দাঁড়িয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে হাত মেলান। যেন মনে হয় তিনি ওই বিমানেই উঠছেন। কিন্তু চোখের পলকে, যাদুমন্ত্রের মতো তিনি বিমানের ঘুরেপথে পাশে থাকা একটা বেনামী সাদা বিমানে চেপে বসেন। তিনটি বিমানের একটি বহর সেবার ইসলামাবাদ গিয়েছিল। যার মধ্যে একটা ছিল মূল বিমান, আরেকটা ট্রাম্পের মতোই ধোঁকা দেওয়ার জন্য নীল রঙের এয়ার ফোর্স ওয়ানের আদলে বানানো। সব মিলিয়ে মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য তিনি পাকিস্তানে ছিলেন।

জর্জ ডব্লিউ বুশ (২০০৩): ইরাক যুদ্ধ শুরুর আট মাসের মাথায় ২০০৩ সালের ২৭ নভেম্বর বাগদাদে আচমকা হাজির হন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। সফরটি এতটাই গুপ্ত রাখা হয়েছিল যে বুশের স্ত্রী ও বাবা-মা পর্যন্ত টের পাননি। প্রচার করা হয়েছিল তিনি টেক্সাসের খামারবাড়িতে থ্যাংকসগিভিং পালন করছেন। অথচ তিনি বেনামী গাড়িতে খামারবাড়ি ছেড়ে ওয়াশিংটনের ঘাঁটি হয়ে বাগদাদে নামেন। অল্প কয়েকজন সাংবাদিক সাথে ছিলেন তবে তাদের মুখ খোলার অনুমতি ছিল না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেটিই ছিল তার প্রথম ইরাক সফর। বাগদাদে তিনি সময় কাটান মাত্র আড়াই ঘণ্টার কিছু বেশি।

বারাক ওবামা (২০১০): ২০১০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন সেনা আর দেশটির নেতাদের সাথে দেখা করতে গোপনে কাবুল পৌঁছান। অথচ সাংবাদিকদের বলা হয়েছিল তিনি ক্যাম্প ডেভিডে সপ্তাহিক ছুটি কাটাচ্ছেন। রাতের আঁধারে যাওয়া, অল্প সময় থাকা আর আফগান সরকারকে একদম শেষ মুহূর্তে জানানোর মতো কৌশল নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই সফরে তিনি অন্য বিমানে উঠে কোনো নাটক তৈরি করেননি।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews