একটা সুন্দর ঘড়ি কিনে যত্ন করে আলমারিতে তুলে রাখলেন। বিশেষ দিন ছাড়া পরবেন না- ভেবে মাসের পর মাস পড়ে রইল। তারপর একদিন বের করে দেখলেন, ঘড়ি চলছে না! অনেকের কাছেই বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও, বিশেষ করে কিছু ধরনের ঘড়ি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই ঘড়ি শুধু সংগ্রহ করে রাখলেই হবে না, মাঝেমধ্যে পরাও দরকার। বিশেষ করে যেসব ঘড়ি আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তৈরি, সেগুলো দীর্ঘদিন একেবারে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় না রেখে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করা ভালো।
কোয়ার্টজ ঘড়ি হলে ব্যাটারির দিকে নজর দিন
সাধারণ ব্যাটারিচালিত কোয়ার্টজ ঘড়ি দীর্ঘদিন না পরলেও ব্যাটারি কিন্তু ঘড়ির ভেতরেই থাকে। ফলে ঘড়ি ব্যবহার না করলেও ব্যাটারি ধীরে ধীরে তার চার্জ হারায়।
আর ব্যাটারি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা ঠিক নয়। কারণ পুরোনো বা লিক হওয়া ব্যাটারি ঘড়ির ভেতরের সূক্ষ্ম অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তাই কোনো ঘড়ি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে নির্ভরযোগ্য ঘড়ির দোকান বা সার্ভিস সেন্টারে ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভালো।
অটোমেটিক ঘড়ি হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ
অটোমেটিক বা অটমেটিক ওয়াচের (Automatic Watch) ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু আলাদা। এ ধরনের ঘড়ি সাধারণত ব্যবহারকারীর হাতের নড়াচড়া থেকে শক্তি সংগ্রহ করে এবং সেটি মেইনস্প্রিঙে জমা রাখে।
ফলে দীর্ঘদিন পরা না থাকলে ঘড়ির পাওয়ার রিজার্ভ শেষ হয়ে গিয়ে ঘড়ি থেমে যেতে পারে। এটি অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাওয়ার লক্ষণ নয়-শুধু আবার চালু করার প্রয়োজন হতে পারে।
সঠিকভাবে ম্যানুয়াল অনুযায়ী সেট করে বা কয়েক ঘণ্টা পরে ব্যবহার করলে ঘড়ি আবার চলতে শুরু করতে পারে।
ঘড়িকে ‘অবসর’ দিলে কী সমস্যা হতে পারে?
ঘড়ির ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র যান্ত্রিক অংশ থাকে। বিশেষ করে মেকানিক্যাল ঘড়িতে গিয়ার, স্প্রিং এবং অন্যান্য মুভিং পার্টস রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে লুব্রিকেন্টের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সার্ভিসিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন প্রতিটি ঘড়ি পরতেই হবে। বরং আপনার ঘড়ির ধরন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহার ও যথাসময়ে সার্ভিস করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তাই ঘড়ির যত্নে ‘ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে’ ব্যবহার করুন
আপনার যদি একাধিক ঘড়ি থাকে, তাহলে সপ্তাহ বা মাস অনুযায়ী ঘড়িগুলো রোটেশন (rotate) করে পরতে পারেন। এতে কোনো একটি ঘড়ি বছরের পর বছর আলমারিতে পড়ে থাকবে না।
আর ঘড়ি না পরলেও মাঝে মাঝে সেটি বের করে পরিষ্কার করা, ব্যাটারি বা পাওয়ার রিজার্ভের অবস্থা দেখা এবং আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখা ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো-ঘড়ি বন্ধ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ধরে নেবেন না যে সেটি নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাটারি শেষ, পাওয়ার রিজার্ভ ফুরিয়ে যাওয়া কিংবা সার্ভিসিংয়ের প্রয়োজন-যেকোনো কারণেই ঘড়ি থেমে যেতে পারে।
সুতরাং প্রিয় ঘড়িটাকে আলমারির অন্ধকারে বন্দি না রেখে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পরুন। ঘড়ি যত্ন পেলে শুধু সময় দেখাবে না, আপনার ব্যক্তিত্বেরও সুন্দর অংশ হয়ে থাকবে।