পৃথিবীর উৎপত্তি নিয়ে বহুদিনের প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে সাম্প্রতিক একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবী সম্ভবত প্রায় পুরোপুরিই সৌরজগতের ভেতরের অঞ্চলের উপাদান দিয়ে গঠিত হয়েছে। আগে ধারণা ছিল, বৃহস্পতির বাইরের অঞ্চল থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পদার্থ এসে পৃথিবী তৈরি করেছে। তবে নতুন গবেষণা সেই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সুইজারল্যান্ডের ইটিএইচ জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই গবেষণা পরিচালনা করেন। তারা মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পতিত উল্কাপিণ্ডের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করেন। এই উল্কাপিণ্ডগুলোকে সৌরজগতের শুরুর সময়ের অবশিষ্টাংশ হিসেবে ধরা হয়, যা গ্রহের গঠন বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়।
গবেষণায় মঙ্গল গ্রহ ও গ্রহাণুপুঞ্জের অন্যতম বৃহৎ বস্তু ভেস্তার উল্কাপিণ্ডের সঙ্গে পৃথিবীর উপাদান তুলনা করা হয়। বিজ্ঞানীরা সমস্থানিক অনুপাত বিশ্লেষণ করে দেখেন, পৃথিবীর উপাদান প্রায় পুরোপুরি ভেতরের সৌরজগত থেকেই এসেছে। মোট উপাদানের ২ শতাংশেরও কম বাইরের অঞ্চল থেকে আসতে পারে, এমনকি একেবারেই নাও থাকতে পারে।
গবেষক পাওলো সোসির মতে, পৃথিবী মূলত একক উপাদানভান্ডার থেকেই তৈরি। ড্যান বাওয়ার বলেন, পৃথিবীর গঠন মঙ্গল ও ভেস্তার সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিলে যায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পৃথিবী সম্পূর্ণভাবে ‘নন-কার্বনেশিয়াস’ উপাদানে গঠিত, যা ভেতরের সৌরজগতের বৈশিষ্ট্য।
এতে ইঙ্গিত মিলেছে, তরুণ সূর্যকে ঘিরে থাকা ধুলোময় চাকতির ভেতরেই স্থিতিশীল পরিবেশে পৃথিবীর জন্ম হয়েছে। বৃহস্পতির শক্তিশালী মহাকর্ষ ওই চাকতিতে একটি ফাঁক তৈরি করেছিল, ফলে বাইরের উপাদান ভেতরে মিশতে পারেনি। গবেষকেরা বলছেন, এই নতুন তথ্য পৃথিবীসহ অন্যান্য পাথুরে গ্রহের গঠন ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে