বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্নপ্রবাহে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে বন্যা এ দেশের বাস্তবতা।কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার ধরন ও তীব্রতায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা উদ্বেগজনক। দীর্ঘস্থায়ী মৌসুমি বন্যার পাশাপাশি এখন আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস এবং নগর-জলাবদ্ধতা একযোগে দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। চলতি জুলাই মাসের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ, উজানের ঢল এবং নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি নতুন করে সেই আশঙ্কাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। বন্যা-পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ইতোমধ্যে দেশের একাধিক বিভাগ ও জেলার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— দুর্যোগ শুরু হওয়ার অপেক্ষা না করে আগাম ও সমন্বিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেছে। সাঙ্গু, মাতামুহুরী, ফেনী, মুহুরী, হালদা, মনু, ধলাই, খোয়াই, কুশিয়ারা, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইতোমধ্যেই পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানি, উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে হাজারো পরিবার পানিবন্দি, চট্টগ্রাম মহানগরে নজিরবিহীন জলাবদ্ধতা এবং সড়ক-রেল যোগাযোগে মারাত্মক বিঘ্ন-সব মিলিয়ে দেশের দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু একটি দুর্যোগ নয়, একই সময়ে বন্যা, পাহাড়ধস, নদীভাঙন এবং নগর-জলাবদ্ধতার মতো একাধিক সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ফলে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
বাংলাদেশে বন্যার বড় একটি কারণ দেশের ভৌগোলিক অবস্থান। হিমালয় থেকে নেমে আসা বিশাল নদীপ্রবাহের শেষগন্তব্য বাংলাদেশ। দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে অতিবৃষ্টি হলেই কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে তার প্রভাব বাংলাদেশের নদীগুলোতে পড়ে। এ কারণে উজানের বৃষ্টিপাতের সঙ্গে দেশের বন্যাপরিস্থিতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এবারও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে শুধু প্রাকৃতিক কারণকে দায়ী করলে চলবে না। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও জলাধার দখল, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজব্যবস্থা, অবৈধভাবে পাহাড়কাটা, বনউজাড় এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি— এসব মানবসৃষ্ট কারণ দুর্যোগের ক্ষতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই যখন একটি মহানগর অচল হয়ে পড়ে, তখন স্পষ্ট হয় যে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৃতিনির্ভর পরিকল্পনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জলবায়ু পরিবর্তন এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে, যার ফলে স্বল্পসময়ে অতিবৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে। বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে দক্ষিণ এশিয়ায় চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটবে। বাংলাদেশ সেই বাস্তবতার অন্যতম বড় ভুক্তভোগী। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান এক শতাংশেরও কম। এই বৈপরীত্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। ইতিহাসও বলছে, বড় বন্যাগুলো কখনোই কেবল একটি প্রাকৃতিক ঘটনা ছিল না; সেগুলো জাতীয় অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের ভয়াবহ বন্যায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দের বন্যা প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয়ে কোটি কোটি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের বন্যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সাম্প্রতিক ২০২২ খ্রিস্টাব্দের সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যা এবং ২০২৪ খ্রিস্টাব্দের ভয়াবহ বন্যাও বার্তা দিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে দুর্যোগের তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেশি।
এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হলো আগাম প্রস্তুতি। সুখবর হলো, বাংলাদেশের বন্যা-পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই সম্ভাব্য বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু পূর্বাভাস তখনই কার্যকর হবে, যখন সেই তথ্য দ্রুত ইউনিয়ন, গ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবে। শুধু তথ্য প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তথ্যকে মানুষের করণীয়তে রূপান্তর করাই প্রকৃত সফলতা। স্মরণ রাখতে হবে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল দর্শন হলো— প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ অধিক কার্যকর। বন্যা শুরু হওয়ার পর ত্রাণ বিতরণ অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ। নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সময়মতো সরিয়ে নেওয়া— এসব প্রস্তুতি এখনই নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, দুর্যোগের সময় প্রতিটি ঘণ্টাই মূল্যবান।
বন্যার প্রভাব শুধু কয়েকদিন পানিবন্দি থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাত জাতীয় অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক জীবনের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত, মাছের ঘের ও গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকের একটি মৌসুমের ক্ষতি শুধু একটি পরিবারের আয় কমিয়ে দেয় না, বরং খাদ্য উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। উচ্চমূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন বন্যাজনিত কৃষি ক্ষতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়ে শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। সড়ক, রেললাইন ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়, নষ্ট হয় পচনশীল খাদ্যপণ্য এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, দিনমজুর, পরিবহনশ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অর্থনীতির এই অদৃশ্য ক্ষতিগুলো অনেক সময় দৃশ্যমান অবকাঠামোগত ক্ষতির চেয়েও বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বন্যার আরেকটি বড় অভিঘাত পড়ে জনস্বাস্থ্যের ওপর। বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্যানিটেশন ব্যবস্থার ভেঙে পড়া এবং দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একইসঙ্গে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার বাড়ায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য বাহকবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাই বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতিতে খাদ্যের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দল প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য। শিক্ষা খাতও বন্যার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়, পাঠদান বন্ধ থাকে, পরীক্ষা স্থগিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দীর্ঘবিরতি তৈরি হয়। বিশেষ করে দরিদ্রপরিবারের অনেক শিক্ষার্থী দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনায় শিক্ষাকার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
একথা ঠিক যে, দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে| ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। কিন্তু বন্যা, পাহাড়ধস ও নগর-জলাবদ্ধতার মতো বহুমাত্রিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দুর্যোগ-ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, আবহাওয়া অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সশস্ত্র বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় যত শক্তিশালী হবে, ক্ষয়ক্ষতি তত কমানো সম্ভব হবে। বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে আগাম সতর্কবার্তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন, এসএমএস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কমিউনিটি রেডিও এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে শুধু বার্তা পাঠালেই হবে না; মানুষ যেন সেই বার্তা বুঝতে পারে এবং কী করতে হবে, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। দুর্যোগ বিষয়ে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ ও মহড়ারও বিকল্প নেই।
দীর্ঘমেয়াদে বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা| নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, খাল ও জলাধার দখলমুক্ত করা, নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, জলাভূমি সংরক্ষণ এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ পাহাড়কাটা বন্ধ, বন সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের বিষয়েও আপসের সুযোগ নেই। একইসঙ্গে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বন্যাসহনশীল অবকাঠামো এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগপ্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। এ কথাও মনে রাখতে হবে, দুর্যোগ মোকাবিলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব। নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে খাল-নালা দখল না করা, ময়লা-আবর্জনা ফেলে জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত না করা, পাহাড়কাটা ও বনধ্বংসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং দুর্যোগের সময় গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি না করা। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ বারবার দুর্যোগ মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের এই নতুন বাস্তবতায় শুধু অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ। বন্যার পূর্বাভাসকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এটি একটি সতর্ক সংকেত, যা আমাদের আগাম প্রস্তুতির সুযোগ করে দেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে বহু প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষতি এবং মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। মনে রাখা দরকার- প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, সহাবস্থানই হতে হবে আমাদের উন্নয়ন দর্শন। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, কার্যকর নদীব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী দুর্যোগপ্রস্তুতির সমন্বয়ই পারে একটি নিরাপদ ও দুর্যোগ-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। সময়ের দাবি একটাই— দুর্যোগ আসার পর নয়, দুর্যোগ আসার আগেই প্রস্তুত হই; কারণ সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তই অসংখ্য প্রাণ ও অমূল্য সম্পদ রক্ষা করতে পারে।
আবসার মাহফুজ সাংবাদিক, গ্রন্থকার; নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর পলিটিক্যাল স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ (সিপিএসআর)।
[email protected]
পূর্বকোণ/রাকিব