চীনের হাইনান প্রদেশের সানিয়া শহরে আগামী ২২ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান বিচ গেমসের ষষ্ঠ আসরের খেলা। এই গেমসের ৬টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ডিসিপ্লিনগুলো হচ্ছে- কাবাডি, হ্যান্ডবল, ভলিবল, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও কুস্তি।
গেমসের অন্যতম আকর্ষনীয় ডিসিপ্লিন হচ্ছে কাবাডি। যেখানে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী দু’দলই খেলবে। এশিয়ান বিচ গেমসের ইতিহাসে গত পাঁচ আসরের মধ্যে প্রথম তিনটিতেই পদক জিতেছিল লাল-সবুজের কাবাডি। কিন্তু শেষ দুই আসারে কাবাডি ছিল না। এবার চীনের সানিয়াতে সেই পদক পুনরুদ্ধারের পালা। পদক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়েই এবারের বিচ গেমসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ কাবাডি দল। গতকাল বিকালে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ বাংলা ব্যাংক মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্যই জানান গেমসে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন ও বিওএর সহ-সভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ। তিনি বলেন,‘বিচ গেমসের প্রথম তিন আসরে কাবাডি থেকে ব্রোঞ্জপদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ ও পঞ্চম আসরে কাবাডি ছিল না। এবারের আসরে ফের কাবাডি যুক্ত হওয়ায় আমাদের প্রত্যাশাও বেশি এই খেলাকে ঘিরে।’


গেমসের পুরুষ কাবাডিতে অংশ নিচ্ছে ৮টি দল। ড্র অনুযায়ী বাংলাদেশ পড়েছে পুল ‘এ’ তে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, ইরান ও সিরিয়া। অন্যদিকে পুল ‘বি’ তে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, চাইনিজ তাইপে, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। আসরের নারী কাবাডিতে খেলছে ৭টি দল। এই বিভাগের পুল ‘এ’তে স্থান পেয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও সিরিয়া। ‘বি’ পুলে বাংলাদেশের মেয়েরা খেলবে থাইল্যান্ড, চাইনিজ তাইপে ও নেপালের বিপক্ষে। কাল সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিচ গেমসকে সামনে রেখে ৮০ দিনের প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী কাবাডি দল। প্রস্তুতিতে ঘাটতি নেই বলে জানান কর্মকর্তারা। কাবাডির পাশাপাশি ভলিবল ও হ্যান্ডবল নিয়েও আশাবাদী তারা। হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ ভালো ফলাফলের আশা ব্যক্ত করে বলেন,‘আমরা মালদ্বীপে বিচ কমনওয়েলথ হ্যান্ডবলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিলাম। এশিয়ান বিচ গেমসের জন্য আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি, আশা করছি ইতিবাচক ফলাফলের।’ ভলিবল ফেডারেশন কর্তাদেরও একই আশা।
বিচ কুস্তিতে তিন মিনিটের খেলা। বাংলাদেশের দুই জন পুরুষ কুস্তিগীর অংশ নেবেন এবারের আসরে। কুস্তি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মুবিন আহমেদ মৃদুভাবে পদকের আশা দেখিয়েছেন। ওপেন ওয়েটার সুইমিংয়ে একজন পুরুষ সাতারু এই গেমসে অংশ নিবেন। গেমসের উদ্বোধনী মার্চ পাস্টে বাংলাদেশ দলের পতাকা বহন করবেন হ্যান্ডবল খেলোয়াড় রবিউল ও অ্যাথলেটিক্সের সুমাইয়া দেওয়ান। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা থাকবে বাংলাদেশ ভলিবল দলের অধিনায়ক হরষিৎ বিশ^াসের হাতে।
গেমস শুধু পদকের জন্যই নয়, শৃঙ্খলা ও ভাতৃত্ব বন্ধনের জন্যেও। বিগত সময়ে অনেক গেমসে বাংলাদেশের ম্যানেজার-কোচরা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিওএর নতুন কমিটি আসার পর এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক গেমস। এই গেমসের শেফ দ্য মিশন শৃঙ্খলার ব্যাপারে বলেন,‘কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রত্যেকে প্রত্যেকের দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞাত। এরপরও আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করব।’
বিচ গেমসের প্রশিক্ষণ বাবদ ২ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে বিওএ। অংশগ্রহণ ও সর্বসাকুল্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বিওএর। তারা এই ব্যয় বহন করেছে আপাতত তবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করেই। ছয় ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ৩১ , কর্মকর্তা ১০। এর বাইরে আরো ১৪ জন রয়েছেন কন্টিনজেন্টে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews