বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে নানা  আয়োজন সম্পন্ন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল আলোচনা সভা, আড্ডা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং তরুণদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম। বহুজাতিক অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।

আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিলো - “ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পোশাক-একটাই হৃদয়", "আমাদের বৈচিত্র্য, আমাদের গর্ব” এবং “সংস্কৃতিতেই আমাদের পরিচয়- বসুন্ধরা শুভসংঘের হাত ধরে ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র, নির্ভয়।"

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের পার্বত্য অঞ্চল সমন্বয়ক ও বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা বলেন, “ভালোবাসা শুধু ব্যক্তিগত আবেগ নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও সহনশীলতার শক্ত ভিত্তি। পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের পরিচয় বহন করে। এই সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই ভালোবাসা ও সম্প্রীতির চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের সম্পৃক্ত করে মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রোয়াংছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি শিমল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন,“ভালোবাসা শুধু একটি দিনের বিষয় নয়—ভালোবাসা মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। আমরা যদি সবাই মিলে একে অপরকে সম্মান করি ও সহযোগিতা করি, তাহলেই সমাজ আরও সুন্দর হবে।”

সাধারণ সম্পাদক মং মং সাই মারমা বলেন, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। তরুণ সমাজ যদি সহিংসতা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের পথ ছেড়ে মানবিকতা ও ভালোবাসার পথে এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর হবে। ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রকাশ হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রত্নজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “ভালোবাসা দিবস আমাদের শেখায়—সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করতে। বসুন্ধরা শুভসংঘ তরুণদের মানবিক কাজের সাথে যুক্ত করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।”

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমর রাণী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন,“ভালোবাসা মানে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, এটি পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবতার সাথে গভীরভাবে জড়িত। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সহাবস্থানে বসবাস করছে- এই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা ও আড্ডার পাশাপাশি পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সম্প্রীতির গান এবং ভালোবাসা বিষয়ক বার্তাধর্মী পরিবেশনা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি দিপা তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যা, অর্থ সম্পাদক অংধাপ্রু মার্মা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শুব্র তঞ্চঙ্গ্যা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ওয়াংথোয়াই মার্মা, তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক অন্টার তঞ্চঙ্গ্যা, সদস্য চিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা, বাষিকা তঞ্চঙ্গ্যা, নিকারাণী তঞ্চঙ্গ্যা ও থুইচিংপ্রু মার্মা।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। উপস্থিত সবাই এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘের সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা জানান, ভালোবাসা দিবসকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিকতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। পার্বত্য অঞ্চলের বহুবর্ণ সংস্কৃতির মাঝে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করাই তাদের প্রত্যাশা।

বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews